কিডস হার্ট ফাউন্ডেশন ও কাতার চ্যারিটির উদ্যোগে ১৫৩ শিশুর বিনামূল্যে হৃদরোগ চিকিৎসা
১৫৩ শিশুকে বিনামূল্যে হৃদরোগ চিকিৎসা দিল কিডস হার্ট ফাউন্ডেশন

জাতীয় কিডস হার্ট ফাউন্ডেশন ও কাতার চ্যারিটি ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত ১৫৩ শিশুকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়েছে। ২ থেকে ৯ মে পর্যন্ত রাজধানীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চ্যারিটি কার্ডিয়াক মিশনের মাধ্যমে এই সেবা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বৃহস্পতিবার (১৮ মে) ফাউন্ডেশন সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বিনামূল্যে চিকিৎসার বিস্তারিত

এই বিশেষ মিশনের আওতায় প্রায় ১০৮ জন শিশুর হৃদপিণ্ডে ডিভাইস স্থাপন ও বিভিন্ন ইন্টারভেনশন সম্পন্ন করা হয়েছে। এর আগে রমজান মাসে একই উদ্যোগের অংশ হিসেবে আরও ৩১ জন শিশুকে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এছাড়া ১৪ জন শিশুকে ওপেন হার্ট সার্জারির জন্য নির্বাচিত করা হয়, যার মধ্যে ইতিমধ্যে পাঁচজনের অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বাকি নয়জনের সার্জারি আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

ফাউন্ডেশনের ভূমিকা

শিশু হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) অধ্যাপক ডা. নুরুন্নাহার ফাতেমা বেগম কিডস হার্ট ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ফাউন্ডেশনটি দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতায় আর্থিকভাবে অসচ্ছল জন্মগত হৃদরোগী শিশুদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে। সর্বশেষ চ্যারিটি মিশনটির সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের প্রধান ও কিডস হার্ট ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. নুরুন্নাহার ফাতেমা বেগম।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বাংলাদেশ টিমের সহযোগী হিসেবে ছিলেন ডা. আশিক মো. রায়হান চৌধুরী, ডা. প্রিয়াঙ্কা দাস, ক্যাথ ল্যাব চীফ টেকনিশিয়ান মো. আনোয়ার হোসেন, কালাম, নায়িম, আশরাফ, শাহ-আলম প্রমুখ। কাতার চ্যারিটি ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিদল, বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডা. মো. নোমান, জর্ডান থেকে ডা. ইয়াদ আল অমৌরি, ফিলিস্তিন থেকে ডা. হাসান, কাতার থেকে ডা. আব্দুল্লাহ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে সার্বিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করেন।

জন্মগত হৃদরোগের ভয়াবহতা

জন্মগত হৃদরোগ (কনজেনিটাল হার্ট ডিজিজ) শিশুদের জন্য এক নীরব ঘাতক। বিশ্বব্যাপী প্রতি হাজারে প্রায় ৮ থেকে ১০ জন শিশু এই রোগ নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। বাংলাদেশে এই হার আরও উদ্বেগজনক; প্রতি হাজারে প্রায় ১৮ থেকে ২৫ জন শিশু এ রোগে আক্রান্ত হয়। এসব শিশুর একটি উল্লেখযোগ্য অংশের চিকিৎসা বর্তমানে কাটা-ছেঁড়া ছাড়াই ইন্টারভেনশন পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা সম্ভব হলেও চিকিৎসা ব্যয় অত্যন্ত বেশি হওয়ায় বহু পরিবার তা বহনে অক্ষম। ফলে প্রতিবছর অসংখ্য শিশু প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়ে প্রাণ হারায়।

কিডস হার্ট ফাউন্ডেশন ও কাতার চ্যারিটির এই উদ্যোগ অসহায় পরিবারগুলোর জন্য আশার আলো হয়ে দেখা দিয়েছে। ফাউন্ডেশনটি ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।