পুষ্টিগুণে দুধের সর দারুণ। এতে থাকে স্যাচুরেটেড ফ্যাট, কোলিন, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ভিটামিন এ, ভিটামিন ই, ভিটামিন কে, এবং কিছু পরিমাণ আমিষ ও শর্করা। বুঝতেই পারছেন, পুষ্টিগুণে দুধের সর দারুণ।
বিপত্তি স্যাচুরেটেড ফ্যাটে
তবে মূল বিপত্তিটা স্যাচুরেটেড ফ্যাট নিয়েই। দুধের সরে ক্যালরির মাত্রাটাও বেশি। মাত্র এক টেবিল চামচ দুধের সর থেকেই আপনি ৫০ কিলোক্যালরির একটু বেশি পেয়ে যাবেন। তাই পরিমাণে পরিমিতি জরুরি। স্যাচুরেটেড ফ্যাট অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে। তবে একজন সুস্থ ব্যক্তি রোজ এক-দুই চা-চামচ দুধের সর খেলে ক্ষতি নেই। এর বেশি না খাওয়াই ভালো। কালেভদ্রে পরিমাণটা একটু বেশিও হতে পারে, তাতে ক্ষতি নেই। তবে সুষম খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি কায়িক শ্রমের গুরুত্বও ভুলে যাওয়ার সুযোগ নেই।
যাদের দুধের সর এড়িয়ে চলা উচিত
কোন কোন সমস্যা থাকলে দুধের সর এড়িয়ে চলবেন? সেগুলো হলো: হৃদরোগ (হৃৎপিণ্ডের ধমনিতে ব্লক), উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ফ্যাটি লিভার ডিজিজ, রক্তে টোটাল কোলেস্টেরল বা এলডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। আগে কখনো স্ট্রোকের ইতিহাস থাকলেও তাঁদের জন্য একই কথা প্রযোজ্য।
সর দিয়ে তৈরি খাবারেও সতর্কতা
অনেকে আবার দুধের সর না খেলেও সর দিয়ে তৈরি নানা খাবার বা পানীয় খান। ঘি, মাখন, ননি—সবই আদতে দুধের সর। ঘি বা মাখন দিয়ে মুখরোচক নানা খাবার তৈরি হয়। যেমন হোয়াইট সস দিয়ে তৈরি পাস্তা, স্যুপের ক্রিম, সরভাজা, সরপুরিয়া, মালাই চপ, মালাই আইসক্রিম, মালাই কোফতা, মালাই-চা ও ঘোল। এসব খাবারে থাকা দুধের সর আপনার ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই একজন সুস্থ ব্যক্তিরও এসব খাবার পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করা উচিত। আর যাদের সমস্যা আছে, তাদের এসব খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো।



