পল্লবীতে স্কুলশিক্ষক ফিরোজা খানমকে হাতুড়িপেটা করে হত্যা, পুলিশ তদন্তে
পল্লবীতে স্কুলশিক্ষক হত্যা, পুলিশ তদন্তে

পল্লবীতে স্কুলশিক্ষক ফিরোজা খানমকে হাতুড়িপেটা করে হত্যা

রাজধানীর পল্লবীতে ফিরোজা খানম ওরফে জোছনা নামের এক স্কুলশিক্ষককে হাতুড়িপেটা করে হত্যার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার বিকেলে পল্লবীর একটি ভাড়া বাসা থেকে তাঁর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ফিরোজা খানমের বয়স ছিল ৬৮ বছর। তিনি স্থানীয় হলি ক্রিসেন্ট আইডিয়াল স্কুল নামের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ফিরোজা খানম মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনের ‘ডি’ ব্লকের ৮ নম্বর সড়কের ২৯ নম্বর ছয়তলা ভবনের দোতলার একটি কক্ষে একাই ভাড়া থাকতেন। প্রায় ২৫ বছর আগে তাঁর বিয়ে হয়েছিল, কিন্তু বিয়ের কিছুদিন পরই স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটে। এর পর থেকে তিনি একাই জীবনযাপন করছিলেন। তিন কক্ষের ওই ফ্ল্যাটের একটিতে থাকতেন তিনি, পাশের কক্ষে রাজু মুন্সি নামের এক ব্যক্তি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ভাড়া থাকেন, এবং অন্য কক্ষটি ফাঁকা ছিল।

ভবনের নিরাপত্তাকর্মী আবদুল মান্নান সাংবাদিকদের জানান, ফিরোজা খানম কিন্ডারগার্টেনে শিক্ষকতার পাশাপাশি বিভিন্ন বাসায় টিউশনি করতেন। তিনি প্রতিদিন সকালে বাসা থেকে বের হতেন এবং বেশির ভাগ সময় রাত ১০টার দিকে ফিরতেন। গত বৃহস্পতিবার সকালে তিনি বাসা থেকে বের হয়ে রাত ১০টায় ফিরেছিলেন, কিন্তু শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টা বেজে গেলেও বের না হওয়ায় নিরাপত্তাকর্মী খোঁজ নিতে দোতলায় যান।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

লাশ উদ্ধার ও তদন্ত

ফ্ল্যাটের দরজা খোলা দেখে নিরাপত্তাকর্মী নিচে এসে স্থানীয় বাসিন্দা মহিউদ্দিনকে বিষয়টি জানান। পরে তাঁরা ঘরে গিয়ে ফিরোজা খানমকে রক্তাক্ত অবস্থায় বিছানায় পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে পল্লবী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করে। মরদেহের পাশ থেকে রক্তমাখা একটি হাতুড়ি উদ্ধার করা হয়েছে, যা হত্যার অস্ত্র বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরে বিকেলে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়। নিহত শিক্ষিকার গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রামের মুন্সিপাড়া থানার কৃষ্ণপুরে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, ঘটনাস্থল থেকে একটি হাতুড়িসহ রক্তমাখা ওড়না পাওয়া গেছে। ফিরোজার মাথার বাঁ দিকে ও মাঝখানে থেঁতলানো জখম ছিল, এবং তাঁর থুতনির ওপরেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

পরিবারের প্রতিক্রিয়া ও পুলিশের বক্তব্য

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন নিহত ফিরোজার ভাই রোমন হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমার বোনের ২৫ বছর আগে বিয়ে হলেও সেই সংসার ভেঙে যায়। এরপর তিনি আর বিয়ে করেননি। আমার বোনকে হত্যা করা হয়েছে।’ তিনি পরিবারের পক্ষ থেকে ন্যায়বিচারের দাবি জানান।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মো. মোস্তাক সরকার বলেন, পরিবারের সঙ্গে ফিরোজার কোনো যোগাযোগ ছিল না। ধারণা করা হচ্ছে, মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। তাৎক্ষণিক হত্যাকাণ্ডের কারণ জানা যায়নি, এবং হত্যাকারীকে শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তদন্তে জড়িত থাকতে পারে এমন সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে।

এই ঘটনা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে, এবং স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে যে দ্রুততম সময়ের মধ্যে হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করা হবে এবং বিচার নিশ্চিত করা হবে।