কক্সবাজারে কিশোরী গৃহকর্মীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, তদন্ত চলছে
কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের শ্রীধনপাড়ায় এক কিশোরী গৃহকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত কিশোরীর বয়স ১৫ বছর এবং সে চাকমা সম্প্রদায়ের সদস্য। গত রোববার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে স্থানীয় বাসিন্দা সাধন বড়ুয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ভবনের দ্বিতীয় তলার রান্নাঘর থেকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তার মরদেহ পাওয়া যায়।
পরিবার ও মালিকপক্ষের বিপরীত দাবি
নিহত কিশোরীর পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন যে, তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার পর মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তারা অভিযোগ করেন যে, ঘটনার দিন বিকেলে বাড়ির মালিকের ছেলে কিশোরীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করলে বাধা দেওয়ায় তাকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করা হয়। অন্যদিকে, বাড়ির মালিক সাধন বড়ুয়া দাবি করেন যে, কিশোরীটি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তিনি বলেন, বৈশাখ উপলক্ষে বাড়ি যেতে না পেরে সে মানসিক চাপে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে।
পুলিশের তদন্ত ও ময়নাতদন্ত
রামু থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ ফরিদ জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে এবং মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষা করা হচ্ছে। থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নিক্সন চৌধুরী বলেন, কিশোরীর গলায় দাগ পাওয়া গেছে, যা ঘটনার রহস্য আরও গভীর করেছে।
সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া ও বিচার দাবি
কিশোরীর শেষকৃত্য সোমবার বিকেলে সম্পন্ন হয়, যেখানে কক্সবাজার জেলা বৌদ্ধ সুরক্ষা পরিষদের সভাপতি প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষুসহ স্থানীয় সম্প্রদায়ের লোকজন উপস্থিত ছিলেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার দাবি করেছেন। প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু বলেন, পরিবারের দাবি অনুযায়ী এটি একটি পরিকল্পিত হত্যা হতে পারে, এবং প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন জরুরি।
পারিবারিক বক্তব্য ও শোক
নিহত কিশোরীর বাবা জানান, ঘটনার দিন সকালে তিনি মেয়ের সঙ্গে কথা বলতে ফোন করেছিলেন, কিন্তু কেউ সাড়া দেয়নি। বিকেল পাঁচটার দিকে কিশোরী তার খালার মুঠোফোনে কল করে দ্রুত আসতে বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে। রাত আটটার দিকে বাড়িতে গিয়ে তিনি মেয়ের মরদেহ দেখতে পান। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ। আমার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি এর ন্যায়বিচার চাই।’ কিশোরীটি টেকনাফ উপজেলার বাসিন্দা ছিল এবং তিন বছর ধরে ওই বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রমতে, বাড়ির মালিক সাধন বড়ুয়ার দুই ছেলে প্রবাসে থাকেন, যাদের একজন সম্প্রতি ফ্রান্স থেকে দেশে ফিরেছেন। এই ব্যক্তি সম্পর্কে পরিবারের হত্যার অভিযোগ রয়েছে। তদন্ত চলাকালীন পুলিশ সকল পক্ষের বক্তব্য সংগ্রহ করছে এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করার কথা বলেছে। সম্প্রদায়ের উদ্বেগ ও জনমনে তৈরি হওয়া প্রশ্নের নিরসনে দ্রুত তদন্ত শেষ করার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।



