পাইকগাছায় অজ্ঞাত বৃদ্ধের মানবেতর অবস্থা: ইউএনওর হস্তক্ষেপে সুচিকিৎসা নিশ্চিত
খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কাসিমনগর বাজারে এক অজ্ঞাত বৃদ্ধের মানবেতর অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়েছিল স্থানীয়ভাবে। প্রায় একমাস ধরে ছাগল বিক্রির চাঁদনীতে শুয়ে থাকা এই বৃদ্ধের সেবাযত্নের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। দৈনিক যুগান্তর ও স্থানীয় দৈনিক লোকসমাজে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী দ্রুত হস্তক্ষেপ করেন।
বৃদ্ধের করুণ অবস্থা ও স্থানীয়দের বর্ণনা
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ৮০ থেকে ৮৫ বছর বয়সী এই অজ্ঞাত বৃদ্ধকে কাসিমনগর বাজার জামে মসজিদের সামনের ছাগল বিক্রির চাঁদনীতে ফেলে রেখে যায় কিছু নির্দয় ব্যক্তি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে একই স্থানে শুয়ে থাকতেন, গোসল বা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কোনো সুযোগ ছিল না। প্রস্রাব-পায়খানা সবই তিনি সেই অবস্থায় করতেন, যা দুর্গন্ধের সৃষ্টি করেছিল।
এক চা দোকানদার জানান, "ঈদুল ফিতরের কয়েকদিন আগে একটি ভ্যানে করে দুইজন ব্যক্তি বৃদ্ধকে এখানে নিয়ে আসেন। তাকে চাঁদনীতে রেখে কিছুক্ষণ বসে থাকার পর তারা চলে যান, কিন্তু বৃদ্ধ সেখানেই রয়ে যান।" স্থানীয় সাংবাদিক মোস্তাক আহম্মেদ ও বাজারের লোকজন মানবিক দৃষ্টিতে খাবার দিলেও, তার শরীরে মল-মূত্র লেগে থাকায় কেউ কাছে যেতে চাইতেন না।
ইউএনওর মানবিক উদ্যোগ ও সুচিকিৎসা
সংবাদ প্রকাশের পর শনিবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে বৃদ্ধকে পাইকগাছা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। একইসঙ্গে তাকে গোসল করিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয় এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হয়। ইউএনও জানান, "এই ধরনের মানবিক ঘটনায় দ্রুত সাড়া দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। আমরা বৃদ্ধের সুচিকিৎসার পূর্ণ ব্যবস্থা করেছি।"
বাজারে আসা নুরুল আমিনের মতে, "যারা বৃদ্ধকে ফেলে রেখে গেছেন, তাদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনা জরুরি।" স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সরকারি সহযোগিতা কামনা করেন, যাতে এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি না হয়।
এই ঘটনা সামাজিক দায়বদ্ধতা ও সরকারি সেবার গুরুত্ব তুলে ধরে, যা পাইকগাছা উপজেলায় একটি মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।



