চট্টগ্রামে প্রবাস ফেরত বন্ধুকে চাকরি দেওয়ায় ব্যবসায়ী নিহত, গ্রেফতার ঘাতক
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে প্রবাস ফেরত বন্ধুকে চাকরি দেওয়ার পর টাকা লেনদেনের বিরোধে ব্যবসায়ী দিদারুল আলমকে ইট দিয়ে হত্যা করেছেন তারই বন্ধু আবু তৈয়ব। শুক্রবার (১০ মার্চ) রাত ১০টার দিকে মইজ্জ্যারটেক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে এবং শনিবার আদালতের মাধ্যমে ঘাতক তৈয়বকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, দিদারুল আলম ও আবু তৈয়ব পরস্পর বন্ধু ছিলেন। তৈয়ব প্রবাসে থাকতেন, কিন্তু বিদেশ থেকে কাজ হারিয়ে দেশে ফিরে আসার পর দিদারুল তাকে নিজের প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেন। তবে ব্যবসায়িক টাকা লেনদেনে জটিলতা তৈরি হওয়ায় কিছুদিন ধরে দুজনের মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল।
শুক্রবার রাতে দিদারুল পটিয়া কোলাগাঁও গ্রামের বাড়ি থেকে নগরীর বাকলিয়ার বাসায় ফেরার পথে মইজ্জ্যারটেক এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা তৈয়ব ও তার সহযোগীরা তাকে আক্রমণ করে। তৈয়ব ইট দিয়ে দিদারুলের মাথায় সজোরে আঘাত করেন, যার ফলে তিনি মাটিতে ঢলে পড়েন এবং পরে মৃত্যুবরণ করেন।
গ্রেফতার ও আইনি প্রক্রিয়া
ঘটনাস্থল থেকে স্থানীয় জনতা আবু তৈয়বকে ধরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। কর্ণফুলী থানার ওসি মো. শাহীনূর আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং জানিয়েছেন যে তৈয়বকে গ্রেফতারের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। হামলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত ও আসামির পরিচয়
দিদারুল আলম পটিয়ার কোলাগাঁও ইউনিয়নের কালারপোল মোহাম্মদ নগর এলাকার মৃত আহম্মেদ মিয়ার ছেলে। তার তিন মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। তিনি নগরীর রেয়াজউদ্দিন বাজারে একটি স্টেশনারি দোকানের মালিক ছিলেন এবং হুন্ডি ব্যবসাও করতেন।
আবু তৈয়ব একই এলাকার মৃত কবির আহম্মেদের ছেলে। তৈয়বের পরিবারের দাবি, দিদারুলের কাছে তার ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা পাওনা ছিল এবং টাকা পরিশোধ না করে দিদারুল শহরের বাসা ছেড়ে অন্যত্র চলে যান, যা বিরোধের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
চিকিৎসা ও তদন্ত
স্থানীয় লোকজন অচেতন দিদারুলকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ আরও জানায়, দিদারুল তৈয়বকে দোকানে চাকরি দেওয়ার পাশাপাশি হুন্ডি ব্যবসায় কাজে লাগাতেন, যা শেষ পর্যন্ত তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়।
এ ঘটনায় পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। স্থানীয় সম্প্রদায় এ হত্যাকাণ্ডে স্তম্ভিত হয়ে পড়েছে এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানাচ্ছে।



