কুষ্টিয়ায় স্কুলছাত্রী ধর্ষণ: বিদ্যালয়ের দপ্তরি গ্রেফতার, মেডিকেল রিপোর্ট পজিটিভ
কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় একটি বিদ্যালয় থেকে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অচেতন অবস্থায় উদ্ধার হওয়া ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিশু শিক্ষার্থী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকরা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং মেয়েটির শারীরিক পরীক্ষার নমুনা পজিটিভ পাওয়া গেছে।
মামলা ও গ্রেফতার
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাতে শিশুটির মা মিরপুর থানায় ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন। মামলায় ওই বিদ্যালয়ের দপ্তরি হামিদুল ইসলামকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে। পুলিশ তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠিয়েছে।
মিরপুর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "মামলার একমাত্র আসামি হামিদুল ইসলামকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।"
চিকিৎসকদের বক্তব্য
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক হোসেন ইমাম বলেন, "মেয়েটি ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। তার শারীরিক পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ পাওয়া গেছে।" হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডের মেডিকেল অফিসার সুষ্মিতা বিশ্বাস জানান, মেয়েটির শরীরের কয়েক জায়গায় আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।
চিকিৎসকরা আরও জানিয়েছেন, হাসপাতালে ভর্তি থাকা শিশুটির শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে।
ঘটনার বিবরণ
গত বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে মিরপুর উপজেলার একটি বিদ্যালয় থেকে অচেতন অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। শিশুটিকে প্রথমে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
শিশুটির পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ওই বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ছিল। বিকাল তিনটার দিকে অনুষ্ঠান শেষে সবাই বাড়ি ফিরে গেলেও শিশুটি বাড়ি ফেরেনি। পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
শিশুটির মামা বলেন, "দপ্তরিকে শ্রেণিকক্ষগুলোর তালা খুলে দেখার কথা বললে তিনি কোনো কর্ণপাত করেননি। বরং উদ্ধত আচরণ করেন। পরে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করে তল্লাশি চালানো হয়। নিচতলার তালা খুলে দোতলায় গিয়ে মেয়েটিকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।"
পুলিশের তদন্ত
এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মামলা করার আগেই বিদ্যালয়ের দপ্তরি ও নৈশপ্রহরীকে থানা হেফাজতে নিয়েছিল পুলিশ। মামলা দায়েরের পর একমাত্র আসামি দপ্তরিকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এই ঘটনায় ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। শিশু নির্যাতনের এই মর্মান্তিক ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হচ্ছে।



