চট্টগ্রামের আনোয়ারায় মা-মেয়ের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার: আত্মহত্যা নাকি হত্যা?
আনোয়ারায় মা-মেয়ের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, তদন্ত চলছে

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় মা-মেয়ের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার: আত্মহত্যা নাকি হত্যা?

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় এক মর্মান্তিক ঘটনায় সুমি আক্তার (২৮) নামের এক গৃহবধূ ও তার দেড় বছর বয়সি মেয়ে ওয়াসিহা আক্তারের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিকাল ৫টার দিকে বৈরাগ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গুয়াপঞ্চক দেয়াং বাজার আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি গুচ্ছগ্রামের বসতঘরে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার বিবরণ ও উদ্ধার প্রক্রিয়া

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকালে পরিবারের অন্য সদস্যরা ঘরে প্রবেশ করলে মা ও মেয়েকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তারা অবিলম্বে পুলিশকে খবর দেন, যারা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশ লাশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছে, এবং তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃতি নির্ধারণের চেষ্টা চলছে।

পরিবার ও স্থানীয় নেতাদের বক্তব্য

নিহত সুমি আক্তারের বড় বোন বেবি আক্তার দাবি করেছেন যে তার বোন আত্মহত্যা করেননি, বরং তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি জানান, বিয়ের পর থেকেই সুমির স্বামী তাকে নির্যাতন করে আসছেন, যা এই ঘটনার পেছনে একটি সম্ভাব্য কারণ হতে পারে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অন্যদিকে, গুয়াপঞ্চক ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. ইদ্রিস জানান, নিহতের স্বামী তাকে জানিয়েছেন যে তার স্ত্রী ও মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। ইদ্রিস ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে থানায় খবর দিয়েছেন, এবং তিনি স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে এই ঘটনায় শোক ও উদ্বেগের কথা উল্লেখ করেছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের তদন্ত ও পদক্ষেপ

এ বিষয়ে আনোয়ারা থানার ওসি মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে ফোর্স পাঠিয়েছেন এবং লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে প্রতিবেদন পাওয়ার পর এটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যা, তা স্পষ্ট হবে। পুলিশ এখন পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাৎকার নিচ্ছে এবং প্রমাণ সংগ্রহ করছে, যাতে দ্রুত সত্যতা যাচাই করা যায়।

এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, এবং অনেকেই নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন। তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছে সবাই, আশা করা হচ্ছে যে শীঘ্রই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।