রাজধানীর আদ্-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৩০ মে) সন্ধ্যায় এ ঘটনায় কয়েকজন সাংবাদিক আহত হন। সম্প্রতি হাসপাতালটিতে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় পরিদর্শনে সেখানে গিয়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ক্ষোভ
পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের একটি ভবনে বেকারি পরিচালনা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দেখতে পেয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, 'হাসপাতালে একটি বেকারি পাওয়া গেছে। দুটি ইলেকট্রিক ওভেন দিয়ে এই বেকারি চলে। কোনও ইঞ্জিনিয়ার নেই। এটা উচিত হয়নি। প্রচুর ময়লা পাওয়া গেছে।'
সাংবাদিকদের বাধা
প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতাল ত্যাগ করার পর হাসপাতালের প্রবেশমুখগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং ১ নম্বর গেটের সামনে নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের অবস্থান নিতে দেখা যায়। এ সময় সাংবাদিকরা ভেতরে প্রবেশ করতে চাইলে তাদের বাধা দেওয়া হয়। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়।
এ বিষয়ে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাহিদা ইয়াসমিন বলেন, 'বেকারিটি স্বাস্থ্যমন্ত্রী সিলগালা করে দিয়ে গেছেন। এখন আর কাউকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া সম্ভব না।' পরে হাসপাতালের সিনিয়র ম্যানেজার ঘটনাস্থলে এলেও তিনি সাংবাদিকদের কোনও প্রশ্নের উত্তর দেননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
হামলার ঘটনা
এর কিছুক্ষণ পর হাসপাতালের স্টাফ নার্স, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও নিরাপত্তাকর্মীরা সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় লাঠিসোঁটা নিয়ে ধাওয়া করা হয় এবং বিভিন্ন শক্ত বস্তু নিক্ষেপ করা হয়। এতে কয়েকজন সাংবাদিক আহত হন। হামলায় আহতদের মধ্যে রয়েছেন টাইমস অব বাংলাদেশের স্টাফ রিপোর্টার কাজী জাহিদ ও দীপ্ত টিভির এক ক্যামেরাপারসন। এ ছাড়া বৈশাখী টিভির একটি ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য
ডিএমপির রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নবজাতক মৃত্যুর তদন্ত
গত বুধবার সকালে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট ডেলিভারি অপারেটিভ ওয়ার্ডে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার কারণ ও হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা নিয়ে তদন্তে স্বাস্থ্য অধিদফতর তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে। তবে মৃত নবজাতকদের মায়েদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব না হওয়ায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় চার দিন বাড়িয়ে ৩ জুন নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কমিটিতে আরও তিন সদস্য যুক্ত করা হয়েছে।



