রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালে পোস্ট–অপারেটিভ কক্ষটি ছিল ‘সাফোকেটিভ’ বা বদ্ধ প্রকৃতির। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. জাহিদ রায়হান বলেছেন, এই কক্ষটি পোস্ট–অপারেটিভ কক্ষ হিসেবে ব্যবহার করা উচিত ছিল না। শুক্রবার প্রথম আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
ছয় নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যু
গত বুধবার সকালে হাসপাতালটির ডেলিভারির পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। নবজাতকদের বয়স ছিল এক থেকে তিন দিনের মধ্যে। এই ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটি গঠন
ঘটনাটি তদন্তে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। অধ্যাপক জাহিদ রায়হান জানান, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত চলছে। আগামীকাল শনিবার এই তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘যেখানে বাচ্চাগুলো মারা গেছে, সেখানে আমরা কোনো ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থাই দেখিনি। সেখানে কেবল এসি চলে। মৃত্যুর বিষয়টি বাদ দিলাম, কিন্তু যদি এসিগুলো হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়, তাহলেও এটি খুব সাফোকেটিভ জায়গা। প্রাথমিকভাবে বলা যায়, ওটা পোস্ট–অপারেটিভ হিসেবে ব্যবহার হওয়া উচিত হয়নি।’
গাফিলতির অভিযোগ
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালকও পোস্ট–অপারেটিভ নিয়ে এর আগে গাফিলতির কথা বলেছেন। জাহিদ রায়হান বলেন, ‘এ রকম একটা জায়গাতেই ছয়টি মৃত্যু খুব অস্বাভাবিক। ও রকম একটা পোস্ট–অপারেটিভ বছরের পর বছর ধরে চলছে, কোনো দুর্ঘটনা হয়নি। এখন হঠাৎ ছয়টি বাচ্চা কেন মারা গেল? সুতরাং কারণটা খুঁজে বের করা অত্যন্ত জরুরি। আমি যদি আমার পদের জায়গা থেকে কোনো কিছু সুনির্দিষ্ট করে দিই, তাহলেও তদন্তটা ব্যাহত হতে পারে।’
মামলা দায়ের
গত বুধবার রাতে রাজধানীর রমনা থানায় হাবিবুর রহমান নামের এক নবজাতকের বাবা অভিযোগ করেন। গত বৃহস্পতিবার সেটি মামলা হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হয়। মামলায় অবহেলার কারণে নবজাতকদের মৃত্যুর অভিযোগ আনা হয়েছে এবং আসামি করা হয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।



