হঠাৎ ওজন বাড়া কি থাইরয়েডের লক্ষণ?
হঠাৎ ওজন বাড়া কি থাইরয়েডের লক্ষণ?

বয়স বাড়ার সঙ্গে ওজন বাড়া একটি সাধারণ ঘটনা হলেও, জীবনযাপন বা খাদ্যাভ্যাসে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন না থাকা সত্ত্বেও যদি ধীরে ধীরে ওজন বাড়তে থাকে, তবে তা উপেক্ষা করা উচিত নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে থাইরয়েডের সমস্যা, বিশেষ করে হাইপোথাইরয়ডিজম দায়ী হতে পারে।

থাইরয়েড গ্রন্থির ভূমিকা

গলার সামনের দিকে অবস্থিত ছোট প্রজাপতি-আকৃতির থাইরয়েড গ্রন্থি শরীরের বিপাকক্রিয়া, শক্তি উৎপাদন এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যখন থাইরয়েডের কার্যকারিতা কমে যায়, তখন মেটাবলিজম ধীর হয়ে পড়ে, ফলে ক্যালরি পোড়ানোর হার কমে এবং ওজন বাড়তে পারে।

বয়সজনিত পরিবর্তন বনাম থাইরয়েড সমস্যা

বয়স বাড়ার সাথে সাথে কম ঘুম, মানসিক চাপ, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব বা হরমোনের পরিবর্তনের কারণেও ওজন বাড়তে পারে। তবে কোনো বড় পরিবর্তন ছাড়াই যদি দ্রুত ওজন বাড়তে থাকে, তাহলে তা থাইরয়েড সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

থাইরয়েড সমস্যার অন্যান্য লক্ষণ

শুধু ওজন বৃদ্ধি নয়, থাইরয়েডের সমস্যার সাথে আরও কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে, যেমন:

  • সবসময় ক্লান্ত লাগা
  • স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ঠান্ডা অনুভব করা
  • চুল পড়া
  • ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া
  • কোষ্ঠকাঠিন্য
  • মুখ বা গলায় ফোলাভাব
  • মন খারাপ বা উদ্বেগ
  • নারীদের ক্ষেত্রে মাসিকের অনিয়ম

এছাড়া, নিয়মিত ডায়েট ও ব্যায়াম করেও ওজন কমতে চায় না। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব লক্ষণ সাধারণত ধীরে ধীরে প্রকাশ পায়, তাই অনেকেই এগুলোকে বয়সজনিত স্বাভাবিক পরিবর্তন ভেবে উপেক্ষা করেন।

নির্ণয় ও চিকিৎসা

থাইরয়েডজনিত সমস্যা নির্ণয় করা খুব জটিল নয়। সাধারণ রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমেই হরমোনের মাত্রা জানা সম্ভব। সময়মতো চিকিৎসা শুরু করলে ওষুধ, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং পর্যাপ্ত ঘুমের মাধ্যমে এই সমস্যা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘদিন অবহেলা করলে উচ্চ কোলেস্টেরল, হৃদরোগসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বয়স বাড়া স্বাভাবিক হলেও শরীরের অস্বাভাবিক পরিবর্তনের প্রতি নজর দেওয়া জরুরি। দীর্ঘদিন ধরে ওজন বৃদ্ধি বা অতিরিক্ত ক্লান্তি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ।