গভীর রাতে ক্ষুধা লাগলে ফ্রিজের সামনে গিয়ে দাঁড়ানো অনেকেরই অভ্যাস। কিন্তু আপনি কি জানেন, ফ্রিজ খোলার সঙ্গে সঙ্গেই যে তীব্র সাদা বা নীলচে আলো আপনার চোখে পড়ে, তা কেবল আপনার চোখের জন্যই ক্ষতিকর নয়, বরং এটি আপনার শরীরের পুরো হরমোন চক্রকে ওলট–পালট করে দিতে পারে? চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘সার্কাডিয়ান রিদম’ বা ঘুমের চক্রের বিঘ্ন ঘটানো। আধুনিক ফ্রিজে এখন এ সমস্যা সমাধানে যুক্ত হচ্ছে ‘সফট লাইটিং’ বা ‘অ্যাম্বিয়েন্ট লাইট’ প্রযুক্তি।
মাঝরাতের খাদ্যাভ্যাস ও সুস্থতায় যেসব বিষয় মেনে চলা জরুরি
রাতে ফ্রিজ খোলার পর যদি আলো খুব তীব্র মনে হয়, তবে সরাসরি আলোর দিকে না তাকিয়ে একপাশ থেকে খাবার বা পানি খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করুন। এতে চোখের ওপর চাপ কমবে।
আপনার ফ্রিজে যদি উজ্জ্বলতা নিয়ন্ত্রণের সুযোগ থাকে, তবে সন্ধ্যার পর থেকেই ডিসপ্লে বা ভেতরের আলোর ইনটেনসিটি কমিয়ে রাখুন। এতে ঘুমের চক্র বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা কমে।
ব্লু-লাইট ফিল্টার বা ‘নাইট মোড’ ফিচার যুক্ত ফ্রিজ কেনার চেষ্টা করুন, যা সূর্যাস্তের পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে আলোর রং বদলে শরীরকে ঘুমের জন্য প্রস্তুত রাখে।
মাঝরাতে ভারী খাবার এড়িয়ে চলুন। কারণ, ফ্রিজের নীল আলো মেলাটোনিন নষ্ট করার পাশাপাশি আপনার হজম প্রক্রিয়ার গতিকেও কমিয়ে দেয়।
যদি ফ্রিজে নীল আলো থাকে, তবে রাতে ব্যবহারের সময় ‘ব্লু লাইট ফিল্টারিং’ চশমা ব্যবহার করতে পারেন, যা চোখের রেটিনাকে সুরক্ষা দেবে। এই চশমা নীল আলো ব্লক করে চোখের ক্লান্তি ও ক্ষতি রোধ করে।
ফ্রিজের ডোর প্যানেলে থাকা সেন্সরগুলো পরীক্ষা করুন, যেন দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে আলো হুট করে না জ্বলে বরং ধীরে ধীরে উজ্জ্বল হয়। এতে চোখের ওপর চাপ কমে।
ঘুমানোর অন্তত দুই ঘণ্টা আগে প্রয়োজনীয় খাবার বা পানি ফ্রিজ থেকে বের করে টেবিলে রাখুন, যাতে মাঝরাতে বারবার ফ্রিজ খুলে ঘুমের চক্র নষ্ট না হয়।
ফ্রিজের ভেতরে খাবারগুলো এমনভাবে গুছিয়ে রাখুন, যাতে রাতে খোলার পর খুব কম সময় আলো জ্বালিয়েই কাঙ্ক্ষিত জিনিসটি খুঁজে পাওয়া যায়। এতে আলোর সংস্পর্শ কমবে।



