সরকার আড-দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আপিলের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কয়েক সপ্তাহ আগে অক্সিজেন সংকট ও চরম অবহেলার অভিযোগে ওই হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়।
ঘটনার পটভূমি
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (ডিজিএইচএস) ওই মৃত্যুর পর হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করে। সরকারি তদন্ত কমিটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার প্রমাণ পায়। এরপর থেকে হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
আপিল ও পুনর্বিবেচনা
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লাইসেন্স বাতিলের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক আপিল করেছে। এর ফলে কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করছে। সরকার হাসপাতালটিকে তদন্তে চিহ্নিত ত্রুটিগুলো সংশোধনের জন্য কয়েক মাস সময় দিতে পারে বলে জানা গেছে।
একজন সিনিয়র স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, পুনর্বিবেচনার ভিত্তি থাকলে মন্ত্রণালয় বিষয়টি পর্যালোচনা করতে পারে। তবে তিনি সাম্প্রতিক কোনো অগ্রগতি সম্পর্কে অবগত নন।
শর্ত ও সম্ভাব্য সময়সীমা
সূত্র মতে, সরকার হাসপাতালের পরিচালনা পর্ষদের সাম্প্রতিক পুনর্গঠনকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। হাসপাতাল যদি সংশোধনমূলক ব্যবস্থা বাস্তবায়নে বিশ্বাসযোগ্য অঙ্গীকার দেখায়, তাহলে লাইসেন্স পুনরুদ্ধার বিবেচনা করা হতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পূর্ণ ক্ষতিপূরণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার শর্ত হতে পারে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হাসপাতালকে ত্রুটি সংশোধন ও নিয়ন্ত্রক প্রয়োজনীয়তা পূরণের জন্য তিন থেকে পাঁচ মাস সময় দেওয়া হতে পারে।
প্রতিক্রিয়া ও বিতর্ক
ছয় নবজাতকের মৃত্যু ব্যাপক জনগুরুত্ব সৃষ্টি করে এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার ওপর নতুন করে নজর পড়ে। অনেক স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও পর্যবেক্ষক হাসপাতাল বন্ধের বিপক্ষে মত দেন। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোও বিষয়টি বারবার উত্থাপন করে।
রবিবার সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এই পদক্ষেপ হাসপাতাল স্থায়ীভাবে বন্ধ করার পরিবর্তে জবাবদিহিতা নিশ্চিত ও স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
“অনেকে বলেছেন, সেখানে ডায়ালাইসিস সেবা পাওয়া যায় ২০০ থেকে ২৫০ টাকায়, যা সত্যি,” মন্ত্রী বলেন। “তবে মাথা কেটে মাথাব্যথা সারানো যায় না। যারা দোষী তাদের জবাবদিহি করতে হবে। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল লাইসেন্স স্থগিত করা, হাসপাতাল বন্ধ করা নয়।”
তবে ডিজিএইচএস জানিয়েছে, হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে এবং আপিলের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।
আড-দীন ফাউন্ডেশনের কোম্পানি বিষয়ক পরিচালক তারিকুল ইসলাম মুকুল বলেন, “আমরা ডিজিএইচএস ও মন্ত্রণালয়ের চিহ্নিত ত্রুটিগুলো সংশোধন করে সচিব বরাবর আবেদন করেছি। এখন সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি।”
বিদেশি শিক্ষার্থীদের সংকট
লাইসেন্স বাতিলের কারণে মেডিকেল কলেজে পড়ুয়া শতাধিক বিদেশি শিক্ষার্থীদের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যদিও একাডেমিক কার্যক্রম চলছে, হাসপাতাল সেবা বন্ধ থাকায় ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ ও ইন্টার্নশিপ ব্যাহত হচ্ছে।
ভারত ও মালদ্বীপের ২৯৫ শিক্ষার্থীর জন্য পরিস্থিতি বিশেষ উদ্বেগের। ভারতীয় মেডিকেল নিয়ম অনুযায়ী, স্নাতকদের সাধারণত যে প্রতিষ্ঠান থেকে ডিগ্রি অর্জন করেন সেই প্রতিষ্ঠানের অধীনে হাসপাতালে ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করতে হয়।
শিক্ষার্থীরা আশঙ্কা করছেন, অন্য হাসপাতালে ইন্টার্নশিপ করলে তাদের যোগ্যতার স্বীকৃতি প্রভাবিত হতে পারে এবং ভবিষ্যতের ক্যারিয়ার বিপন্ন হতে পারে। তারা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও ডিজিএইচএস-এ স্মারকলিপি দিয়ে বিষয়টির জরুরি সমাধান চেয়েছেন।



