চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা ছয় দফা দাবি আদায়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেছেন। রোববার সকাল ৮টা থেকে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই কর্মবিরতি শুরু হয়। এতে হাসপাতালে আগত ও ভর্তি রোগীদের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে।
কর্মবিরতির পটভূমি
গত ১৯ মে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জারি করা এফসিপিএস প্রশিক্ষণসংক্রান্ত নোটিশকে 'অযৌক্তিক' আখ্যা দিয়ে গত বুধবার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায় চমেক হাসপাতাল ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন। একইসঙ্গে সংগঠনটি ছয় দফা দাবি উত্থাপন করে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বাস্তবায়নের আলটিমেটাম দেয়। পরদিন বৃহস্পতিবার মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করার পাশাপাশি দাবি আদায়ে হাসপাতাল পরিচালকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দাবি
সংগঠনের সভাপতি ডা. সাকিব হোসেন বলেন, 'আমাদের ছয় দফার মধ্যে প্রথম দাবির বিষয়ে কিছুটা আশ্বাস দেওয়া হলেও বাকি দাবিগুলোর বিষয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি মেলেনি। তাই বাধ্য হয়ে আমরা কর্মবিরতি পালন করছি। তবে দাবি আদায় না হলে আমরা আরও কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হব।'
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবস্থান
চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন জানান, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দাবিগুলোর বিষয়ে মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। কর্মবিরতির কারণে রোগীদের সেবা যাতে ব্যাহত না হয়, সেজন্য প্রফেসর থেকে শুরু করে ট্রেইনি চিকিৎসকদের পর্যায়ক্রমে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, কর্মবিরতির কারণে রোগীদের সেবা বিঘ্ন হচ্ছে না।
উল্লেখ্য, শনিবার মানববন্ধন ও বিক্ষোভ শেষে রোববার থেকে কর্মবিরতি শুরুর হুঁশিয়ারি দিয়েছিল সংগঠনটি। কর্মবিরতি শুরুর পর বেলা সাড়ে ১১টায় চমেক হাসপাতালের ভবনের নিচে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন।



