তেজগাঁওয়ে গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, স্বামী গ্রেফতার
তেজগাঁওয়ে গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, স্বামী গ্রেফতার

রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার হ্যাপি হোমস এলাকায় বন্ধু বেকারির গলির একটি বাসা থেকে জেসমিন আক্তার বিথী (২৯) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় তাকে দীর্ঘদিন ধরে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন নির্যাতন করতেন।

ঘটনার বিবরণ

পারিবারিক সূত্র জানায়, গত ৫ জুন রাত ৯টায় জেসমিন তার বাবাকে ফোন করে যৌতুকের টাকার জন্য স্বামীর নির্যাতনের কথা জানান। কিছু সময় পর রাত সাড়ে ৯টায় তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের একটি বাড়ির ফ্ল্যাটে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তাকে ঝুলতে দেখা যায়। জেসমিনের স্বামী আল আমিনের সঙ্গে ওই বাসায় ভাড়া থাকতেন।

পুলিশের কার্যক্রম

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ওসি মাহবুবুর রহমান জানান, এ ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে স্বামীসহ তিনজনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। ওই মামলার প্রধান আসামি স্বামী আল আমিনকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয় এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। অন্য আসামিদেরও গ্রেফতার করতে অভিযান অব্যাহত আছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় বিথীর বাবা ইলিয়াস বেপারী বাদী হয়ে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা করেছেন।

পরিবারের বক্তব্য

বিথীর বাবা এজাহারে উল্লেখ করেছেন, সাত বছর আগে আল আমিন ও বিথীর বিয়ে হয়। আগে থেকে তাদের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিয়ের পর থেকে আল আমিন পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিলেন। গত বৃহস্পতিবার যৌতুকের টাকা দাবিতে বিথীকে মারধর করেন আল আমিন। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে বিথী আত্মহত্যা করেছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিথীর বাবা যুগান্তরকে জানান, ঘটনার দিন রাতে বিথী রুমের ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে তাকে ফোন করে জানান যে, টাকা নিয়ে স্বামীর সঙ্গে তার ঝগড়া হয়েছে। খবর পেয়ে ইলিয়াস বেপারী তার এক বন্ধুকে নিয়ে দ্রুত মেয়ের বাসায় যান। রুমের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখে ডাকাডাকি ও ফোনে চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাননি। পরে আল আমিন বাসায় এসে দরজা খুললে দেখা যায়, বিথী সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে ঝুলছেন। প্রথমে সমরিতা হাসপাতাল এবং পরে মহাখালী ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

বিথীর বাবা মো. ইলিয়াস বেপারী বলেন, 'আমার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। মেয়েকে তো আর কোনোদিন ফেরত পাব না। আমি শুধু আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই।'