চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) অধ্যাপক ড. জাকিয়া সুলতানা জুথি মারা গেছেন। বান্দরবান ভ্রমণ শেষে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে তিনি তিন দিন কোমায় থাকার পর বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মৃত্যুর কারণ ও চিকিৎসা
চিকিৎসকদের ধারণা, তিনি মশাবাহিত 'জাপানিজ এনকেফেলাইটিস' ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। কারণ এই ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির লক্ষণের সঙ্গে অধ্যাপক জুথির শরীরে দেখা দেওয়া লক্ষণের মিল রয়েছে। তবে তাঁর ম্যালেরিয়া পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এসেছিল।
মেট্রোপলিটন হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের চিকিৎসক ডা. কাওসারুল আলম জানান, অধ্যাপক জুথির জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্ট ছিল। এমআরআই রিপোর্টে মস্তিষ্কে পরিবর্তন দেখা যায় এবং তাঁর ব্রেইন স্ট্রোক হয়েছিল। দুই সপ্তাহ আগে তিনি বান্দরবান গিয়েছিলেন বলে চিকিৎসকরা জানতে পেরে ম্যালেরিয়া পরীক্ষা করান, কিন্তু তা নেগেটিভ আসে।
শেষ মুহূর্তের বিবরণ
অধ্যাপক জুথির সহকর্মী সিভাসুর অধ্যাপক শিরিন আকতার গণমাধ্যমকে জানান, শনিবার রাতে জুথির জ্বর আসে। রোববার জ্বর, পাতলা পায়খানা ও বমি হয়। রোববার রাত ১২টার দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট শুরু হলে তিনি নিজেই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে সিট না পাওয়ায় তাকে ফ্লোরে রাখা হয়। পরে রাত ২টার দিকে তাকে মেট্রোপলিটন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সোমবার ভোর ৬টার দিকে জুথির খিচুনি হয় এবং হাত-পা বাঁকা হয়ে অজ্ঞান হয়ে যান। পরে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। সোমবার তাঁর অবস্থা আরও খারাপ হয় এবং এক পর্যায়ে হার্ট অ্যাটাক হয় ও তিনি কোমায় চলে যান। সোমবার সন্ধ্যায় তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বৃহস্পতিবার ভোরে সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দাফন ও শোক
বৃহস্পতিবার রাতে ময়মনসিংহের শ্বশুরবাড়িতে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। অধ্যাপক জুথি সিভাসুর ফুড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ফ্যাকাল্টির ফুড প্রসেসিং অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। তাঁর বয়স ছিল ৩৬ বছর।
চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম জানান, জাপানিজ এনকেফেলাইটিস মশাবাহিত ভাইরাস। এটি হয়ে থাকতে পারে, তবে বিষয়টি এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। তারা খোঁজ নিচ্ছেন এবং নিশ্চিত হলে জানাবেন।



