চুরির অপবাদে শিশুকে বর্বর নির্যাতন, চিকিৎসায় বাধা
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় হেফজখানার দানবাক্স থেকে টাকা চুরির অপবাদে এক শিশুকে ডেকে নিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন এবং হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পরিচালক মুহাম্মদ সোহেলের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (১ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের বনপুকুর রোসাঈাঘোনা আউলিয়ার জামে মসজিদের পাশে অবস্থিত মুহাম্মদিয়া হেফজখানার অফিস কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
আহত শিশু তামিমের পরিচয়
আহত শিশু তানজিম এহসান তামিম (৯) লোহাগাড়ার চুনতি বনপুকুর এলাকার হাটখোলা মোরার বাসিন্দা মুহাম্মদ নেজাম উদ্দিনের ছেলে। তিনি চুনতি আনসার ভিডিপি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
ঘটনার বিবরণ
আহত শিশুর বাবা মো. নেজাম উদ্দিন বলেন, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় করতে আউলিয়া জামে মসজিদে রওনা দেন তামিম। পথে হেফজখানার দানবাক্স থেকে টাকা চুরির অভিযোগ তুলে কয়েকজন ছাত্র দিয়ে হেফজখানার পরিচালক মুহাম্মদ সোহেল তার ছেলেকে ডেকে নিয়ে যান। পরে অফিস কক্ষের দরজা বন্ধ করে তাকে মারধর করেন। বাড়িতে এসে শিশু বিষয়টি পরিবারকে জানায়। পরে কেন তামিমকে মারধর করেছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাবা নেজাম উদ্দিনকে ধমক দেন অভিযুক্ত সোহেল। এমনকি চিকিৎসার জন্য অটোরিকশাযোগে হাসপাতালে নেওয়ার পথে গতিরোধ করে বাধা দেন সোহেলের পরিবার।
শিশু তামিমের বর্ণনা
আহত তামিম জানান, তিনি জুমার নামাজ আদায়ের জন্য বাড়ি থেকে আউলিয়া জামে মসজিদে যাচ্ছিল। মসজিদে প্রবেশের আগেই কয়েকজন মাদ্রাসাছাত্র তাকে ধরে হেফজখানায় নিয়ে যায়। সেখানে অফিস কক্ষে আটকে রেখে তাকে মারধর করা হয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ
এ ঘটনার পর আহত শিশুকে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে অভিযুক্ত সোহেলের পরিবার বাধা দেন বলে অভিযোগ তুলেন এলাকাবাসী।
অভিযুক্তের বক্তব্য
এ বিষয়ে হেফজখানার পরিচালক মুহাম্মদ সোহেলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযুক্তের বাবা ও চুনতি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ইয়াছিন মাঝির বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
পুলিশের অবস্থান
লোহাগাড়া থানার ওসি আব্দুল জলিল বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



