রাজধানীর আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে তদন্ত প্রতিবেদন তুলে ধরেন স্বাস্থ্য মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। প্রতিবেদনে ছয় শিশুর মৃত্যুর কারণ, হাসপাতালের অবহেলা এবং কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণ
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্ত কমিটি হাসপাতালটি পরিদর্শন করে ঐকমত্য পোষণ করেন যে, ভবনটি হাসপাতাল কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উপযুক্ত নয়। দ্বিতীয়ত, তদন্ত কমিটির নিকট সংশ্লিষ্ট পোস্ট অপারেটিভ কক্ষ নম্বর-২ পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ শেষে প্রতীয়মান হয় যে, কক্ষটিতে দীর্ঘ সময় এসি বন্ধ থাকায় এবং স্বাভাবিক ভেন্টিলেশন কার্যক্রম না থাকায় প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের মাত্রার ঘাটতি হয়েছে এবং এর বিপরীতে কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ছিল।
নার্সদের অবহেলা
তৃতীয়ত, তদন্ত কমিটির কাছে সংশ্লিষ্ট কক্ষের দায়িত্বরত সকল সেবিকা, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও মৃত নবজাতকদের অভিভাবকদের বক্তব্যে প্রমাণ পাওয়া গেছে যে, দায়িত্বরত সেবিকাদের দায়িত্বে চরম অবহেলা ও অসহযোগিতা ছিল। নবজাতকের আকস্মিক শারীরিক অবনতিশীল অবস্থায় হাসপাতালের সক্রিয় ইমারজেন্সি মেডিকেল রেসপন্স ছিল না। অভিভাবকদের আহ্বানের সাড়া না দিয়ে সংশ্লিষ্ট নার্স কোনও চিকিৎসককে বিষয়টি অবহিত না করে কালক্ষেপণ করতে থাকেন। এমনকি নবজাতকদের মৃত্যু রোধে প্রয়োজনীয় উপযুক্ত চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হয়নি।
ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত রোগী
চতুর্থত, উক্ত কক্ষটি প্রায় ৯০০ বর্গফুট, যেখানে ১১ জন রোগী, নবজাতক এবং রোগীর লোকসহ প্রায় ৫০ জনের উপস্থিতি ছিল, যা ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি। পঞ্চমত, তদন্ত কমিটি হাসপাতালের প্রশাসনিক দায়িত্বরত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রমাণ পেয়েছে যে, বিদ্যমান প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিবর্গ একটি হাসপাতাল পরিচালনার প্রাথমিক শর্তগুলো পালনে সক্ষম ছিলেন না। যেমন— পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীদের দেখাশোনার জন্য কোনো চিকিৎসক ছিল না। ওই ওয়ার্ডে দায়িত্বরত সেবিকাদের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও প্রদান করা হয়নি।
ভেন্টিলেশন ও জনবলের অভাব
এছাড়া ওই পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে আলো-বাতাস চলাচলের জন্য ভেন্টিলেশনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ কক্ষে রোগী, নবজাতক ও রোগীর এটেন্ডেন্টসহ অতিরিক্ত সংখ্যক জনবলের উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণও করা হয়নি। হাসপাতালটির অভ্যন্তরে যত্রতত্র কাচের ছোট ছোট কক্ষ নির্মাণের ফলে প্রতিষ্ঠানটি যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
সুপারিশ
তদন্ত কমিটি ভবিষ্যতে বেসরকারি হাসপাতালের নতুন লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল পরিচালনায় ব্যবহৃত ভবন পরিদর্শন পূর্বক পরিবেশ অধিদফতরের পূর্বানুমতি গ্রহণ বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ করেছে।



