ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এক ঘণ্টার কলম বিরতির বিষয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনও নির্দেশনা দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আলতাফ হোসাইন।
কলম বিরতি প্রসঙ্গে ব্যাংকের অবস্থান
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “আমাদের পক্ষ থেকে এমন কোনও নির্দেশনা নেই। কেউ গ্রাহকসেবা প্রদান থেকে বিরত থাকলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের কর্মকর্তারা গ্রাহকদের সেবা দিতে প্রস্তুত আছেন। গ্রাহক যদি সেবা নিতে না আসেন, তাহলে আমাদের পক্ষে তো সেবা দেওয়া সম্ভব নয়। কোনও শাখায় কী পরিস্থিতি চলছে, তা এখানে বসে সবসময় জানা সম্ভব হয় না।”
সচেতন গ্রাহক ফোরামের আহ্বান
এর আগে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর আহ্বানে সাড়া দিয়ে বৃহস্পতিবার ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এক ঘণ্টার কলম বিরতি পালন করেন বলে জানা গেছে। সংগঠনটি নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের পদত্যাগসহ সাত দফা দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণা করে।
বুধবার রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল থেকে সংগঠনটির পক্ষ থেকে ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কলম বিরতির আহ্বান জানানো হয়। সেই আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে দেশের বিভিন্ন শাখায় কর্মসূচি পালিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কর্মকর্তা গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।
গ্রাহক উদ্বেগ ও অর্থ উত্তোলন
আন্দোলনের কারণে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়ে ব্যাপক অর্থ উত্তোলনের ঘটনা ঘটলে ব্যাংকের ওপর কী প্রভাব পড়তে পারে— এমন প্রশ্নের জবাবে আলতাফ হোসাইন বলেন, “একটি ব্যাংক থেকে যদি সব গ্রাহক একদিনে টাকা তুলে নিতে চান, তাহলে যেকোনও ব্যাংকই সমস্যায় পড়বে। তবে বাস্তবে এমন ঘটনা ঘটে না।”
তিনি বলেন, “বর্তমানে বিভিন্ন কারণে অর্থ উত্তোলনের চাপ কিছুটা বেড়েছে। তবে পরিস্থিতি এখনো সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। অন্যান্য সময়ের তুলনায় চাপ বেশি হলেও আতঙ্কিত হওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। এমন কিছু হলে তা সবারই জানা থাকত।”
ব্যাংকটির চলমান পরিস্থিতি নিয়ে গ্রাহকদের উদ্বিগ্ন না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “ইসলামী ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং গ্রাহকসেবা প্রদানে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটুক, তা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চায় না।”



