হাম মোকাবিলার চেয়েও অধিক দক্ষতার সঙ্গে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে চায় সরকার। এমনটাই জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। মঙ্গলবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সভা শেষে ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সারাদেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, মশকনিধন কার্যক্রম এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রস্তুতি জোরদার করা হচ্ছে।
বেসরকারি হাসপাতালে শয্যা সংরক্ষণ
মন্ত্রী জানান, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে তাদের মোট শয্যার ১০ শতাংশ সংরক্ষণ রাখতে হবে। এসব রোগীর কাছ থেকে চিকিৎসকদের ভিজিট ফি নেওয়া হবে না; শুধু ওষুধ ও খাবারের খরচ বহন করতে হবে। এছাড়া ডেঙ্গু রোগীদের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পরীক্ষার ক্ষেত্রে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
পরিচ্ছন্নতা ও মশকনিধন কার্যক্রম
মন্ত্রী জানান, সিটি করপোরেশনের প্রশাসকদের সঙ্গে বৈঠকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সারা দেশে সমন্বিত কার্যক্রম চালানো হবে। হাসপাতালগুলোকে পর্যাপ্ত ফ্লুইড ও স্যালাইনের মজুত নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তিন দিনের মধ্যে মজুত পরিস্থিতির হালনাগাদ তথ্য দিতে বলা হয়েছে।
বর্তমান ডেঙ্গু পরিস্থিতি
বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, এ পর্যন্ত চারজন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। সরকার চেষ্টা করছে যেন ডেঙ্গু সংক্রমণ শূন্যের কোঠায় রাখা যায়। এজন্য পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, ওষুধ ছিটানো এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। মশকনিধন কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত ওষুধ ভারত থেকে আমদানি করা হয় এবং পরীক্ষাগারে এর মান যাচাই করে সন্তোষজনক ফল পাওয়া গেছে। কিছু ক্ষেত্রে স্প্রে কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, যেখানে ওষুধের সঙ্গে কেরোসিন মেশানো হয়। বিষয়টি সিটি করপোরেশন তদারকি করছে।
সবার অংশগ্রহণ প্রয়োজন
তিনি আরও বলেন, সরকার ব্যর্থ হলে দেশ ব্যর্থ হবে। তাই করপোরেট সেক্টরসহ সবাইকে নিয়ে এই দুর্যোগ মোকাবিলা করতে হবে। করোনা ও হামের মতো ডেঙ্গুর বিরুদ্ধেও সম্মিলিতভাবে লড়াই করতে হবে।



