ফুটফুটে ছোট্ট শিশু সাজিদ আল নাহিয়ান। বয়স মাত্র ৭ মাস। প্রবাসী পারভেজ আহমেদ সুমন ও সুলতানা আক্তার দম্পতির তিন কন্যা সন্তানের পর তাদের কোলজুড়ে আসে এই পুত্র সন্তান। পুত্র সন্তান জন্ম নেওয়ায় তাদের পরিবারে আনন্দের মাঝে এখন চলছে শুধুই বিষাদের ছায়া। তারা বলছেন, হামে আক্রান্ত হওয়ার পর সাতটি হাসপাতালে ঘুরেও বাঁচানো যায়নি ওই শিশুটিকে।
শিশুটির মৃত্যু ও চিকিৎসার ইতিহাস
রোববার (১৭ মে) সকালে ঢাকার একটি প্রাইভেট হাসপাতালের আইসিইউতে ওই শিশু মৃত্যুবরণ করে। এই দম্পতি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের সিংরাইশ গ্রামের বাসিন্দা। সাজিদের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ এপ্রিল শিশু সাজিদ সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হলে এই দম্পতি চৌদ্দগ্রাম বাজারের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেন। ওই চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ খাওয়ানোর পর সাজিদ কিছুটা সুস্থ হয়।
হাসপাতালে ভর্তি ও অবস্থার অবনতি
এরপর আবারও গত ১২ মে অসুস্থ হলে শিশুটিকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে দুই দিন চিকিৎসার পর অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে পাশের ফেনী জেলা সদরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি না হওয়ায় তাকে ঢাকা শিশু হাসপাতাল, ঢাকা ন্যাশনাল হেলথ কেয়ার হসপিটাল ও সর্বশেষ তেজগাঁও ইনপালস্ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসক জানান, সাজিদ হামে আক্রান্ত হয়েছে। সেখানে সাজিদের অবস্থার অবনতি হলে জরুরি ভিত্তিতে তাকে নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। অবশেষে রোববার সকালে সাজিদ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
পিতার বক্তব্য
শিশু সাজিদের বাবা দুবাই প্রবাসী পারভেজ আহমেদ সুমন জানান, তিন কন্যা সন্তানের পর চাঁদের আলোর মতো আমাদের কোলজুড়ে এসেছিল সাজিদ। ১৬ বছর পর ছেলে সন্তান জন্ম নেওয়ায় পরিবারে আসে সীমাহীন আনন্দ। কুমিল্লা, ফেনী ও রাজধানীর সাতটি হাসপাতাল ঘুরেও আমাদের আদরের সন্তানকে হামের হাত থেকে বাঁচাতে পারলাম না। চিকিৎসকরা ছেলের হাম চিহ্নিত করতে অনেক দেরী করে ফেলেছে। সবই ভাগ্যের নির্মম পরিহাস। বিকেলে আদরের সন্তানকে গ্রামের বাড়ির কবরস্থানে নিজ হাতে দাফন করেছি।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বক্তব্য
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রশিদ আহমেদ তোফায়েল জানান, শিশু সাজিদ হামের উপসর্গ নিয়ে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে আমরা তার পরিবারকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেই। রোববার সকালে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মারা গেছে বলে জেনেছি।



