নারী প্রজননতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হলো ওভারি বা ডিম্বাশয়। প্রতিটি নারীর শরীরে এক জোড়া ডিম্বাশয় থাকে, যা প্রতি মাসে ডিম্বাণু তৈরি করে এবং শরীরের জন্য অত্যাবশ্যক বিভিন্ন হরমোন নিঃসরণ করে। এই ডিম্বাশয়েই হতে পারে প্রাণঘাতী ক্যানসার। নারীস্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা বাড়লেও, ওভারিয়ান ক্যানসার সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণা এখনও সীমিত।
কেন নীরব ঘাতক?
ওভারিয়ান ক্যানসারের উপসর্গ সাধারণত অস্পষ্ট এবং অন্যান্য সাধারণ রোগের মতো। পেট ফাঁপা, পেটে ব্যথা, অল্প খাবারেই পেট ভরে যাওয়া, ওজন কমে যাওয়া, প্রস্রাব বা পায়খানার অভ্যাসে পরিবর্তন—এসব লক্ষণকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গ্যাস্ট্রিক বা হজমের সমস্যা বলে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। এর ফলেই প্রায় ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রে এই ক্যানসার শেষ পর্যায়ে ধরা পড়ে, যখন চিকিৎসা করা কঠিন হয়ে পড়ে।
বর্তমান চিকিৎসা পদ্ধতি
আধুনিক চিকিৎসায় ওভারিয়ান ক্যানসারের জন্য উন্নত অস্ত্রোপচার, কেমোথেরাপি এবং টার্গেটেড থেরাপি ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে চিকিৎসার সাফল্য মূলত নির্ভর করে রোগটি কোন পর্যায়ে শনাক্ত হয়েছে, তার ওপর। তাই দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ অত্যন্ত জরুরি।
ঝুঁকির কারণ ও প্রতিরোধ
নারীদের ঝুঁকিগুলো জানা প্রয়োজন। যাদের পরিবারে স্তন বা ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের ইতিহাস আছে, তাদের এই রোগ হওয়ার আশঙ্কা বেশি। এছাড়া সন্তান না হওয়া, দেরিতে সন্তান নেওয়া, স্থূলতা এবং বয়সও ঝুঁকির কারণ হতে পারে। দুঃখজনক হলেও সত্য যে ওভারিয়ান ক্যানসারের জন্য এখনও কার্যকর কোনো স্ক্রিনিং টেস্ট নেই। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং লক্ষণ দেখা দেওয়ামাত্র চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
এই রোগ প্রতিরোধের নির্দিষ্ট কোনো উপায় না থাকলেও, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। সুষম খাদ্য গ্রহণ, নিয়মিত ব্যায়াম, ধূমপান পরিহার এবং ওজন নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সচেতনতা এবং দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া। মনে রাখতে হবে, প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে ওভারিয়ান ক্যানসার সম্পূর্ণ চিকিৎসাযোগ্য।
বিশ্ব ওভারিয়ান ক্যানসার দিবস
প্রতিবছর ৮ মে বিশ্ব ‘ওভারিয়ান ক্যানসার’ দিবস হিসেবে পালিত হয়। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘নো উইমেন লেফট বিহাইন্ড’, অর্থাৎ ‘কোনো নারী যেন বাদ না পড়ে’। এর মূল উদ্দেশ্য হলো এই ক্যানসার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং উন্নত চিকিৎসা ও গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরা।
লেখক: ডা. মোছা. ফারহানা তারান্নুম খান, সহযোগী অধ্যাপক, গাইনি অনকোলজি, জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, মহাখালী, ঢাকা।



