আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) থেকে সারা দেশে একযোগে শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা। পরীক্ষাটি ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে। এবারের পরীক্ষায় সর্বমোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে, যা গত বছরের তুলনায় ১৪ হাজার ৩১৬ জন বেশি।
পরীক্ষার প্রস্তুতি ও তথ্য
বুধবার (১ জুলাই) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পরীক্ষার সার্বিক প্রস্তুতি ও বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিনসহ বিভিন্ন বোর্ডের চেয়ারম্যান ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অভিন্ন প্রশ্নপত্র ও নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা
শিক্ষামন্ত্রী জানান, এবারের পরীক্ষা মোট ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রের অধীনে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনুষ্ঠিত হবে। এই বছরই প্রথম ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে সম্পূর্ণ অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হবে। পরীক্ষায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সব কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে স্থাপন করা হয়েছে একটি ‘সিসিটিভি ক্যামেরা মনিটরিং সেল’, যেখান থেকে দেশের যেকোনও প্রান্তের যেকোনও কেন্দ্রের পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা যাবে। এছাড়া পরীক্ষা কেন্দ্রে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তাদের শরীরে থাকবে ‘বডি ওর্ন ক্যামেরা’, যা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ও নকল প্রতিরোধে বড় ভূমিকা রাখবে।
পরীক্ষা সূচি ও বিশেষ ব্যবস্থা
এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় মোট ৭৭টি বিষয়ে ২১ দিনে পরীক্ষা সম্পন্ন হবে। পরীক্ষার্থী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে জানানো হয়েছে, সপ্তাহের যেদিন পরীক্ষা থাকবে না, সেদিন সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম বা ক্লাস যথারীতি পরিচালিত হবে। মন্ত্রী জানান, নকলের জন্য খ্যাত বা বিতর্কিত ভেন্যু কেন্দ্রগুলো এবার পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছে। তবে হাওর, পার্বত্য অঞ্চল এবং দুর্গম চরাঞ্চলের পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতের কথা বিবেচনা করে কিছু দূরবর্তী ভেন্যু কেন্দ্র বহাল রাখা হয়েছে। এছাড়া ‘সেভেন্থ ডে অ্যাডভান্টিস্ট’ ধর্মীয় সম্প্রদায়ের পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় শনিবারের পরীক্ষাগুলো কেন্দ্রের ভেতরেই সূর্যাস্তের পর অনুষ্ঠিত হবে।
৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের তথ্য
শিক্ষামন্ত্রী জানান, ২০২৫ সালে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে সর্বমোট পরীক্ষার্থীর (নিয়মিত ও অনিয়মিত) সংখ্যা ছিল ১০ লাখ ৫৫ হাজার ৩৯৮ জন। এর মধ্যে ছাত্র ছিল ৪ লাখ ৯১ হাজার ২৮৪ জন এবং ছাত্রী ছিল ৫ লাখ ৬৪ হাজার ১১৪ জন। ২০২৬ সালে সর্বমোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৪ লাখ ৯২ হাজার ৪০৬ জন এবং ছাত্রী ৫ লাখ ৭৭ হাজার ৩০৮ জন। ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে সর্বমোট ১৪ হাজার ৩১৬ জন পরীক্ষার্থী বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে ছাত্র ১ হাজার ১২২ জন এবং ছাত্রী ১৩ হাজার ১৯৪ জন।
২০২৫ সালে পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৮০৮টি। ২০২৬ সালে তা বেড়ে ৪ হাজার ৮৮৫টি হয়েছে। ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে প্রতিষ্ঠান বৃদ্ধি পেয়েছে ৭৭টি। ২০২৫ সালে সর্বমোট পরীক্ষার কেন্দ্রের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৬০৫টি। ২০২৬ সালে তা বেড়ে ১ হাজার ৬২৬টি হয়েছে।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের তথ্য
বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৫ সালে সর্বমোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৮৬ হাজার ১০২ জন। এর মধ্যে ছাত্র ছিল ৪৬ হাজার ৬২৮ জন এবং ছাত্রী ছিল ৩৯ হাজার ৪৭৪ জন। ২০২৬ সালে সর্বমোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৯২ হাজার ৯০৫ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৫২ হাজার ১১ জন এবং ছাত্রী ৪০ হাজার ৮৯৪ জন। পরীক্ষার্থী বৃদ্ধি পেয়েছে ৬ হাজার ৮০৩ জন।
২০২৫ সালে সর্বমোট পরীক্ষার কেন্দ্রের সংখ্যা ছিল ৪৫৯টি। ২০২৬ সালে তা বেড়ে ৪৬১টি হয়েছে। ২০২৫ সালে পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৬৮২টি। ২০২৬ সালে তা বেড়ে ২ হাজার ৭০৫টি হয়েছে। ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২৩টি বৃদ্ধি পেয়েছে।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের তথ্য
বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৫ সালে সর্বমোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৯ হাজার ৬১১ জন। এর মধ্যে ছাত্র ছিল ৮০ হাজার ১০৩ জন এবং ছাত্রী ছিল ২৯ হাজার ৫০৮ জন। ২০২৬ সালে সর্বমোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৭৭ হাজার ৫৫২ জন এবং ছাত্রী ৩০ হাজার ৪১২ জন। ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে পরীক্ষার্থী হ্রাস পেয়েছে ১ হাজার ৬৪৭ জন।
২০২৫ সালে সর্বমোট পরীক্ষার কেন্দ্রের সংখ্যা ছিল ৭৩৩টি। ২০২৬ সালে তা কমে ৬১০টি হয়েছে। ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে পরীক্ষার কেন্দ্র হ্রাস পেয়েছে ১২৩টি। ২০২৫ সালে পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৮২৪টি। ২০২৬ সালে তা বেড়ে ১ হাজার ৮৪৯টি হয়েছে। প্রতিষ্ঠান বৃদ্ধি পেয়েছে ২৫টি।
২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার নিয়মিত শিক্ষার্থীর তথ্য
২০২৬ সালে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের আওতায় একাদশ শ্রেণিতে (২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষ) ১১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৬১ জন শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন করে, তার মধ্যে ৭ লাখ ৯৪ হাজার ৪৭৭ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করে। নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩ লাখ ৯১ হাজার ৯৮৪ জন পরীক্ষার্থী ফরম পূরণ করেনি। ফরম পূরণ না করা পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৩ দশমিক ৪ শতাংশ।
২০২৬ সালে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আওতায় আলিম প্রথম বর্ষে (২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষ) ১ লাখ ৩৯ হাজার ৯২৯ জন শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন করে, তার মধ্যে ৭৮ হাজার ২৬৯ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করে। নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৬১ হাজার ৬৬০ জন পরীক্ষার্থী ফরম পূরণ করেনি। ফরম পূরণ না করা পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৪৪ দশমিক ৭ শতাংশ।
২০২৬ সালে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতায় একাদশ শ্রেণিতে (ভোকেশনাল) (২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষ) ১ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪২ জন শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন করে, তার মধ্যে ৭৫ হাজার ১৯৭ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করে। নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৯০ হাজার ৩৪৫ জন পরীক্ষার্থী ফরম পূরণ করেনি। ফরম পূরণ না করা পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৫৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ।



