ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ‘ক’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা প্রশ্নপত্র চালুর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের মানোন্নয়নে প্রতি চারটি উত্তরপত্রের জন্য একজন অতিরিক্ত পরীক্ষক নিয়োগেরও নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৮ জুলাই) উপাচার্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ভর্তি-সংক্রান্ত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে উপ-উপাচার্য, বিভিন্ন অনুষদের ডিন এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আগামী আগস্টের শুরুতে কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটির সভায় প্রস্তাব দুটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।
‘ক’ ইউনিটের আওতা
সূত্র জানায়, আলাদা প্রশ্নপত্রের ব্যবস্থা আপাতত শুধু ‘ক’ ইউনিটের জন্যই প্রস্তাব করা হয়েছে। এই ইউনিটের আওতায় রয়েছে বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, ফার্মেসি, মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ এবং প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদ। এছাড়া পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট, লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউট এবং তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটও ‘ক’ ইউনিটের অন্তর্ভুক্ত।
ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্য
বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ইংরেজি মাধ্যমের পাঠ্যক্রম বাংলা মাধ্যমের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন। ফলে অনেক ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ না নিয়ে বিদেশে উচ্চশিক্ষার পথ বেছে নেন। নতুন এ উদ্যোগ তাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
মেধাক্রম নির্ধারণ পদ্ধতি
দুই ধরনের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মেধাক্রম কীভাবে নির্ধারণ করা হবে, তা নিয়ে এর আগে বিভিন্ন অনুষদের ডিনদের সমন্বয়ে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ইতোমধ্যে তাদের সুপারিশ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছে।
উপ-উপাচার্যের বক্তব্য
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক আব্দুস সালাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। প্রতি বছর ভর্তি পরীক্ষা শুরুর আগে ভর্তি প্রক্রিয়ায় সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা হয়। এবারও সেই ধারাবাহিকতায় এ প্রস্তাব এসেছে।
তিনি বলেন, ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের (সি ইউনিট) ভর্তি পরীক্ষায় ইতোমধ্যেই অনুরূপ ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীরা বাংলা বিষয়ের পরিবর্তে অ্যাডভান্সড ইংলিশ অংশে পরীক্ষা দেন, তবে বাকি প্রশ্নপত্র সবার জন্য একই থাকে।
অতিরিক্ত পরীক্ষক নিয়োগ
লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে অতিরিক্ত পরীক্ষক নিয়োগের বিষয়ে অধ্যাপক আব্দুস সালাম বলেন, একজন পরীক্ষক দিয়ে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে অনেক সময় নম্বর দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এ ধরনের অভিযোগ কমাতে প্রতি চারটি উত্তরপত্রের জন্য একজন অতিরিক্ত পরীক্ষক রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এতে লিখিত অংশের মূল্যায়নের মান আরও উন্নত হবে।



