সাতক্ষীরার ডে-নাইট কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে এক নিয়মিত পরীক্ষার্থীকে ভুল সিলেবাসের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীর ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তার অভিভাবক। তবে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ বলছে, পরীক্ষার্থী সময়মতো বিষয়টি জানালে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হতো।
ঘটনার বিবরণ
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) অনুষ্ঠিত বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে সাতক্ষীরা সিটি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের নিয়মিত পরীক্ষার্থী মো. এজাজ আহমেদ সাতক্ষীরা ডে-নাইট কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি নিয়মিত পরীক্ষার্থী হলেও তাকে ২০২৬ সালের সিলেবাসের পরিবর্তে ২০২৫ সালের সিলেবাস অনুযায়ী প্রণীত ‘ঘ’ সেটের প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়।
যশোর শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের ২০২৬ সালের পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস অনুযায়ী প্রণীত প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেওয়ার কথা। অন্যদিকে, ২০২৩-২৪ ও তার আগের শিক্ষাবর্ষের অনিয়মিত ও মানোন্নয়ন পরীক্ষার্থীদের জন্য ছিল ২০২৫ সালের সিলেবাসভিত্তিক প্রশ্নপত্র।
অভিভাবকের উদ্বেগ
পরীক্ষার্থীর বাবা আবুল কালাম বলেন, “বোর্ডের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকার পরও কীভাবে এমন ভুল হলো, তা বুঝতে পারছি না। আমার ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিশেষ বিবেচনায় উত্তরপত্র মূল্যায়নের দাবি জানাচ্ছি।”
শিক্ষকের মতামত
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের এক শিক্ষক বলেন, “নিয়মিত পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্র ২০২৬ সালের সিলেবাস অনুযায়ী মূল্যায়নের জন্য বোর্ডে পাঠানো হবে। কিন্তু তিনি যদি ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়ে থাকেন, তাহলে ফল প্রকাশের সময় জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই বিষয়টি দ্রুত কলেজের মাধ্যমে লিখিতভাবে শিক্ষা বোর্ডকে জানানো প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, “পরীক্ষার্থীর রোল, রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও উত্তরপত্রের তথ্য উল্লেখ করে বোর্ডকে অবহিত করা হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকবে। অন্যথায় ফল প্রকাশের সময় সমস্যা দেখা দিতে পারে।”
কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
অভিযোগের বিষয়ে সাতক্ষীরা ডে-নাইট কলেজের অধ্যক্ষ একেএম সফিকুজ্জামান বলেন, “ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণের বিষয়টি আমাকে আগে জানানো হয়নি। পরীক্ষার শুরুতেই কক্ষ পরিদর্শকরা কোন সিলেবাসের শিক্ষার্থী তা নিশ্চিত হয়ে প্রশ্নপত্র বিতরণ করেন। যদি ভুলবশত ভিন্ন প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে পরীক্ষার্থীর তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি জানানো উচিত ছিল।”
তিনি আরও বলেন, “প্রশ্নপত্র পাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই ভুলটি বোঝা সম্ভব ছিল। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর কেন্দ্রের পক্ষে এটি সংশোধনের সুযোগ নেই। তবে ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে কক্ষ পরিদর্শকদের আরও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হবে।”



