জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাক্রমে যুক্ত করছে কারিগরি কোর্স, কর্মমুখী দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্য
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাক্রম সময়োপযোগী করার পাশাপাশি স্নাতক শিক্ষার্থীদের জন্য কারিগরি কোর্স যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দ্বিতীয় বর্ষে অ্যাডভান্সড আইসিটি কোর্স এবং তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষে কর্মমুখী দক্ষতাভিত্তিক বিভিন্ন কোর্স অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কর্মশালায় শিক্ষামন্ত্রীর উদ্বোধন
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে প্রস্তাবিত এই শিক্ষাক্রম নিয়ে আয়োজিত একটি কর্মশালার উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ এস এম আমানুল্লাহ পরিকল্পনার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
উচ্চশিক্ষায় বেকারত্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, দেশের অধিকাংশ কলেজের উচ্চশিক্ষা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরিচালিত হয়। বর্তমানে ২ হাজার ২৭৩টি অধিভুক্ত কলেজে প্রায় ৪০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন, যা দেশের উচ্চশিক্ষা গ্রহণকারী মোট শিক্ষার্থীর ৭০ শতাংশ। এই শিক্ষার্থীদের বেশির ভাগই মধ্য ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান।
পুরোনো ও গতানুগতিক শিক্ষাক্রমের কারণে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পর অনেক শিক্ষার্থী বেকার থাকেন, যার প্রধান কারণ দক্ষতার অভাব। নতুন শিক্ষাক্রমে কারিগরি ও কর্মমুখী কোর্স যুক্ত করে এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে শিক্ষার্থীরা শিক্ষাজীবন শেষে দ্রুত কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করতে পারেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারা
কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও এটুআই প্রকল্প পরিচালক মো. আব্দুর রফিক, ইউনিসেফ বাংলাদেশের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ এমানুয়েল আব্রিউক্স এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ–উপাচার্য মো. লুৎফর রহমান। তাঁরা শিক্ষাক্রম সংস্কারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং ভবিষ্যতে এর ইতিবাচক ফলাফল কামনা করেন।
এই পদক্ষেপটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পড়াশোনা করা লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা দেশের উচ্চশিক্ষা খাতের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।



