দেশে এখনো শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি বলে অকপটে স্বীকার করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। শনিবার (৯ মে) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে ‘চায়না-বাংলাদেশ এডুকেশন করপোরেশন ফোরাম-২০২৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ঘাটতি স্বীকার
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের স্কুল কলেজের স্বল্পতা রয়েছে। কোয়ালিটি স্কুলের অভাব রয়েছে। আমরা নতুন নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তৈরির ব্যবস্থা করব এবং কোয়ালিটিপূর্ণ শিক্ষা ব্যবস্থার পরিকল্পনা আছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দেশে ইতিমধ্যে ৫৭টি পাবলিক ইউনিভার্সিটি এবং ১১৬টি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি রয়েছে। সংখ্যায় আমরা কম নই, কিন্তু আমরা কোয়ালিটি এডুকেশন দিতে ব্যর্থ হচ্ছি।’
দায়িত্ব সরকারের
শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘এই দায়িত্ব তোমাদের নয়, এ দায়িত্ব আমাদের। সর্বোপরি আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এই শিক্ষা ব্যবস্থাকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য যা প্রয়োজন তা করব, তোমাদের সহযোগিতা করার জন্য। আমরা চাই তোমরা ভালোভাবে লেখাপড়া করো এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মে আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তোলো।’
চীনের সঙ্গে শিক্ষক প্রশিক্ষণ
চীনের সঙ্গে শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণের পরিকল্পনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষকদের এড্রেস করতে হবে কীভাবে তোমাদের ক্লাসরুমে পড়াশোনা করাবে। সারা বছর বসে থাকব, বছর শেষে শুধু পরীক্ষা দেব—এটাই লেখাপড়া নয়।’ শিক্ষাক্রম পরিবর্তনের কাজ শুরু হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রতিদিনের ক্লাসরুমে সঠিকভাবে লেখাপড়া করাতে হবে এবং মূল্যায়িত করতে হবে তোমরা তাদের সঙ্গে ঠিকমতো এগোতে পারছ কিনা। এই জন্য আমরা চায়নার সঙ্গে টেকনিক্যাল জেনারেল এডুকেশনে টিচার্স ট্রেনিংয়ের বিশেষ প্রোগ্রাম হাতে নিচ্ছি।’
শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা নির্দেশনা পেয়েছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর—শিক্ষাকে গুরুত্ব দিতে হবে। অতএব তোমাদের জন্য আমরা শিক্ষা ব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য ইতিমধ্যে কারিকুলাম চেঞ্জ করার ব্যবস্থা করছি। সিলেবাস পরিবর্তন এবং একাডেমিক ইয়ার ক্যালেন্ডার তৈরি করার চেষ্টা করছি।’ শিক্ষা ব্যবস্থায় তৃতীয় ভাষা শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
চীনে শিক্ষার্থীদের প্রশংসা
চীনে শিক্ষাক্ষেত্রের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রয়েছে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের প্রায় ১৬ হাজার ছাত্র-ছাত্রী এখন চায়নায় রয়েছে। তারা সেখানে গিয়ে যে লেখাপড়া শিখছে, তা অত্যন্ত বাস্তবমুখী এবং কর্মমুখী শিক্ষা।’



