প্রীতিলতার জন্মবার্ষিকীতে দমদমিয়া আলোর পাঠশালায় শ্রদ্ধাঞ্জলি
প্রীতিলতার জন্মবার্ষিকীতে দমদমিয়া আলোর পাঠশালায় শ্রদ্ধা

প্রথম আলো ট্রাস্ট কর্তৃক পরিচালিত দমদমিয়া আলোর পাঠশালায় গতকাল ব্রিটিশ ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামী বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার-এর জন্মবার্ষিকী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠান শুরু হয় সকাল ১১টায়। শুরুতে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার-এর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা।

আলোচনা সভায় প্রীতিলতার জীবন ও সংগ্রাম

অনুষ্ঠানে প্রত্যেক শিক্ষক প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার-এর জীবনের একটি করে অংশ নিয়ে আলোচনা করেন। এই প্রেক্ষাপটে মো. জোনায়েদ প্রীতিলতার জন্ম ও বেড়ে ওঠা; সৈয়দ নুর-শিক্ষা জীবন; রবিউল আলম-স্বাধীনতা সংগ্রামে যোগদান এবং আমান উল্লাহ-স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রীতিলতার ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন। বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার-এর জন্মবার্ষিকীতে আলোচনা সভায় সকল শিক্ষার্থীরা।

প্রধান আলোচক শ্রী রাজেশ কুমার কানু প্রীতিলতার সামগ্রিক জীবন, ইংরেজদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর ভূমিকা এবং আত্মবলিদান নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘ভারত উপমহাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে চট্টগ্রামের মেয়ে বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার এক স্মরণীয় নাম। স্বাধীনতা সংগ্রাম চলাকালীন তিনি চট্টগ্রামের নন্দনকানন গার্লস স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা ছিলেন। তিনি অসীম সাহসী এক নারী ছিলেন। তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামী মাস্টারদা সূর্য সেনের সহযোগী ছিলেন। তাঁরা বিচ্ছিন্নভাবে ইংরেজদের বিরুদ্ধে অনেক হামলা সফলভাবে পরিচালনা করেন। সর্বশেষ ১৯৩২ সালে চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে অবস্থিত ইউরোপিয়ান ক্লাবে আক্রমণের পরিকল্পনা হয়। এই পরিকল্পনার মূল দায়িত্বে ছিলেন প্রীতিলতা। দিনটি ছিল ২৪ সেপ্টেম্বর, ১৯৩২। সফল হামলার পরে পুলিশের হাতে ধরা পড়তে পারেন এই আশঙ্কায় তিনি পটাশিয়াম সায়ানাইড খেয়ে আত্মাহুতি দেন। আমরা অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে আজ তাঁকে স্মরণ করছি।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রচনা ও কুইজ প্রতিযোগিতা

আলোচনা শেষে ‘প্রীতিলতার স্বাধীনতা সংগ্রাম’ শীর্ষক এক রচনা প্রতিযোগিতা এবং কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। তৃতীয়, চতুর্থ এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এতে অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হয়। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম বলে, ‘আজ জানলাম প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার আমাদের চট্টগ্রাম বিভাগের মানুষ। অথচ এত দিন তাঁর কথা কখনো শুনিনি। এমন একজন স্বাধীনতা সংগ্রামীর কথা আমাদের সকলের জানা দরকার। তাঁদের কথা শুনলে, জানলে আমরা আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস জানব। আর তিনি তো আমাদের চট্টগ্রামের গর্ব। আমরা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারকে নিয়ে গর্বিত।’

সবশেষে শিক্ষার্থীদের প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার-এর কিছু আলোকচিত্র এবং তাঁকে নিয়ে লেখা সেই সময়ের সংবাদপত্রের কিছু আলোকচিত্র প্রদর্শন করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।