প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক বলেছেন, বর্তমান বাস্তবতায় মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ রয়েছে। তিনি বলেন, ‘সিন্ডিকেট’ বা ‘ফেয়ার রিক্রুটমেন্ট সিস্টেম’ যাই বলা হোক, তাদের শর্ত না মানলে শ্রমবাজার যেভাবে বন্ধ আছে সেভাবেই থাকবে। তবে সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিদের বৈঠক হয়েছে। এতে বাংলাদেশ জানিয়েছে, তাদের শর্তে দেওয়া ৪২৩টি লাইসেন্স খুলে দিতে হবে, কারণ ওই শর্ত তারা ইতিমধ্যে পাস করেছে। এ বিষয়ে আলোচনা চলছে।
অভিবাসী সম্মেলনে বক্তব্য
বুধবার (৬ মে) রাজধানীর ইস্কাটনে প্রবাসী কল্যাণ ভবনের মিলনায়তনে ওকাপ আয়োজিত অভিবাসী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দেশীয় ও বিদেশি কর্মসংস্থানের প্রয়োজনীয়তা
প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক বলেন, বাংলাদেশ বিপুল জনসংখ্যার দেশ। দেশ বা বিদেশ যেখানেই হোক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে না পারলে ফের নৈরাজ্য তৈরি হতে পারে। মানুষের মধ্যে সামাজিক অবক্ষয় হবে এবং নানা ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে। তাই দেশীয় কর্মসংস্থান এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের বিষয়টি ভাবতে হবে। এ কারণে এখন দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর ওপর অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে টিটিসিগুলোতে প্রায় ৫৮টি ট্রেডে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ১০৪টি প্রতিষ্ঠানের সবগুলোতে একরকমের সুযোগ-সুবিধা নেই। তবে এটা চিহ্নিত করে ডিজিকে জানানো হয়েছে, যেখানে যেসব ইকুইপমেন্ট ও ফ্যাসিলিটি প্রয়োজন, তা জানাতে হবে, যাতে বাজেটে অর্থ চাওয়া যায়।
সাবেক সরকারের উদ্যোগ ও বর্তমান অবস্থা
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ নজরুল মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজারে সিন্ডিকেট বন্ধে উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এ লক্ষ্যে মালয়েশিয়ার সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা ও সফর হয়। তবে এসব উদ্যোগের পরও শ্রমবাজার পুরোপুরি উন্মুক্ত হয়নি।
তিনি জানান, মালয়েশিয়া বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে ১০টি শর্ত দেয়। এসব শর্ত পূরণ করে তালিকা তৈরি করলে পাঁচ থেকে সাতটি রিক্রুটিং এজেন্সি ছাড়া আর কেউ যোগ্যতা অর্জন করতে পারত না। সে সময় অন্তর্বর্তী সরকার ছয়টি শর্ত মানার প্রস্তাব দিয়ে চিঠিপত্র ও তৎপরতা চালায়।
যোগ্য এজেন্সি ও প্রতারণার অভিযোগ
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শেষ পর্যন্ত ছয় ও সাত শর্ত মিলিয়ে যোগ্য বিবেচনায় ২৩টি এজেন্সির তালিকা মালয়েশিয়ায় পাঠানো হয়। দেশে অনুমোদিত প্রায় তিন হাজার রিক্রুটিং এজেন্সির মধ্যে ন্যূনতম মানদণ্ড পূরণ করেছে ৪২৩টি। তার মতে, বাস্তবে ৪৫০ থেকে ৫০০টির মতো এজেন্সি এই সেবা দেওয়ার জন্য যোগ্য, বাকি প্রতিষ্ঠানগুলো অযোগ্য।
তিনি অভিযোগ করেন, অনেক ক্ষেত্রে একটি ব্যক্তি একাধিক লাইসেন্স নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখছেন। আবার কিছু লাইসেন্স কোনোভাবে ধরে রেখে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এছাড়া যোগ্য তালিকার বাইরের কিছু এজেন্সির বিরুদ্ধে প্রতারণা বা স্ক্যামের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের রিজিওনাল প্রোগ্রাম ম্যানেজার নাজিয়া হায়দার, আইএলও কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন, বিলস’র নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ, ওকাপ নির্বাহী পরিচালক ওমর ফারুক চৌধুরী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ওকাপ চেয়ারপারসন শাকিরুল ইসলাম।



