বাংলাদেশ সরকার নতুন শিক্ষানীতি ঘোষণা করেছে, যেখানে প্রাক-প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত বাধ্যতামূলক শিক্ষার মেয়াদ ১২ বছর করা হয়েছে। এই নীতির আওতায় ৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী সকল শিশুকে বিনামূল্যে শিক্ষা প্রদানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
নতুন শিক্ষানীতির মূল বৈশিষ্ট্য
নতুন শিক্ষানীতিতে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষাকে আনুষ্ঠানিক শিক্ষার অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়।
বাধ্যতামূলক শিক্ষার মেয়াদ বৃদ্ধি
পূর্বে প্রাথমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক মিলিয়ে ৮ বছর বাধ্যতামূলক শিক্ষা ছিল। নতুন নীতিতে তা বাড়িয়ে ১২ বছর করা হয়েছে, যা প্রাক-প্রাথমিক (৩ বছর), প্রাথমিক (৫ বছর) ও মাধ্যমিক (৪ বছর) পর্যায়ে বিভক্ত।
কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণ
নতুন নীতিতে মাধ্যমিক স্তরে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষার্থীরা নবম শ্রেণি থেকে কারিগরি বিষয় বেছে নিতে পারবে। এছাড়া, প্রতিটি উপজেলায় একটি করে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের কথা বলা হয়েছে।
শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ
নতুন শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক শূন্যপদ পূরণ এবং বিদ্যমান শিক্ষকদের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন
নতুন নীতিতে মূল্যায়ন পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রাথমিক স্তরে কোনো পরীক্ষা না থাকলেও, মাধ্যমিক স্তরে ধারাবাহিক মূল্যায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পাবলিক পরীক্ষার সংখ্যা কমানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, এই নীতি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় আইন ও বিধি প্রণয়নের কাজ চলছে। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে নতুন নীতি কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।



