চৌগাছায় জিয়াউর রহমানের তুলা খামারে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি
চৌগাছায় তুলা খামারে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি

যশোরের চৌগাছা উপজেলায় জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া দেশের বৃহৎ তুলা উন্নয়ন গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও বীজ বর্ধন খামারে পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। দীর্ঘদিনের এই দাবি মূলত সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যশোর সফরকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

খামারের বর্তমান অবস্থা ও সম্ভাবনা

চৌগাছার জগদীশপুরে অবস্থিত খামারটি একসময় তুলা উৎপাদনে সম্ভাবনার প্রতীক ছিল। তবে বর্তমানে জনবল সংকট, অব্যবস্থাপনা ও দীর্ঘদিনের অবহেলায় খামারটির কার্যক্রম অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ গত মঙ্গলবার সংসদে দাবি করেন, বিশাল এই খামারের অব্যবহৃত জায়গা কাজে লাগিয়ে এখানে একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন সম্ভব।

প্রধানমন্ত্রীর সফর ও দাবির প্রাসঙ্গিকতা

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া তুলা খামারে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি জোরালো হয়েছে। চলতি সংসদ অধিবেশনে ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ বক্তৃতায় খামারটির বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে বলেন, এখানে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করলে অব্যবহৃত সম্পদ কাজে লাগানো সম্ভব হবে এবং দেশের কৃষি শিক্ষায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

খামারের অবকাঠামো ও সম্পদ

১৯৮০ সালের ১৯ নভেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান খামারটির উদ্বোধন করেন। বাংলাদেশ সরকার ও তৎকালীন ইউরোপীয় অর্থনৈতিক সম্প্রদায়ের (ইইসি) আর্থিক সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত এই খামারটির মোট আয়তন ৪৭৮ বিঘা বা ৬৩ দশমিক ৭০ হেক্টর (প্রায় ১৫৭ একর)। এর মধ্যে গবেষণা, বীজ উৎপাদন, বিভিন্ন ফসল চাষ, বাগান, পুকুর, রাস্তা ও অবকাঠামোসহ নানা কাজে জমি ব্যবহার করা হলেও প্রায় ১৪ দশমিক ৭২ হেক্টর জমি বর্তমানে অব্যবহৃত পড়ে রয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গবেষণা ও প্রশিক্ষণ সুবিধা

খামারটিতে প্রজনন, কৃষিতত্ত্ব, কীটতত্ত্ব, মৃত্তিকা ও রোগতত্ত্ব এই পাঁচটি ডিসিপ্লিনের আওতায় গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পাশাপাশি রয়েছে আবাসিক সুবিধাসহ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, যেখানে একসঙ্গে প্রায় ১২০ জনকে থাকা-খাওয়া ও প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই বিদ্যমান অবকাঠামো ব্যবহার করেই সহজেই একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা সম্ভব।

অতিরিক্ত সম্ভাবনা

খামারের পাশেই অবস্থিত চৌগাছার ‘মর্জাদ বাওড়’, যেখানে রয়েছে কয়েক হাজার বিঘা জমি। এটি মৎস্য ও অন্যান্য গবেষণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। এছাড়া খামারের পতিত জমিতে গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগি বিষয়ক গবেষণাও চালানো যেতে পারে বলে মত সংশ্লিষ্টদের। প্রাকৃতিক দুর্যোগ তুলনামূলক কম হওয়ায় কৃষি গবেষণা ও শিক্ষার জন্য এটি একটি আদর্শ স্থান হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে।

স্থানীয়দের মতামত

খামারের ব্যবস্থাপক কর্টন এগ্রোনোমিস্ট যোবায়ের ইসলাম তালকদার বলেন, এখানে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ হবে সময়োপযোগী। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোসাব্বিন হুসাইনও একই মত পোষণ করে জানান, যশোর অঞ্চলের মাটি সব ধরনের ফসল উৎপাদনের উপযোগী হওয়ায় এখানে কৃষি শিক্ষা ও গবেষণার বিস্তর সম্ভাবনা রয়েছে। জিসিবি আদর্শ কলেজের অধ্যক্ষ আবু জাফর বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগামীকাল যশোর সফরকে কেন্দ্র করে অবহেলিত যশোরবাসীর অনেক চাওয়া-পাওয়ার মধ্যে দক্ষিণ অঞ্চলে একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এখন প্রাণের দাবি।