পদোন্নতি ও শিক্ষক সংকটে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শাটডাউন
পদোন্নতি ও শিক্ষক সংকটে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাটডাউন

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের পদোন্নতি ও শিক্ষক সংকট নিরসনের দাবিতে চলছে কমপ্লিট শাটডাউন। পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এই শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, পরীক্ষাসহ সব একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। শিক্ষার্থীরা সেশন জটের শঙ্কায় পড়েছেন। ক্যাম্পাসে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি প্রায় নেই বললেই চলে।

শিক্ষকদের দাবি

আন্দোলনরত শিক্ষকরা জানিয়েছেন, দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা পদোন্নতি ও নিয়োগ পেলেও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে তা হচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট শিক্ষক থাকার কথা ৪০০-এর বেশি, কিন্তু বর্তমানে আছেন মাত্র ২১০ জন। বেশির ভাগ বিভাগ মাত্র দুই-তিন জন শিক্ষক দিয়ে চলছে। ফলে একেকজন শিক্ষকের ওপর ১৪-১৫টি কোর্সের চাপ পড়ছে।

উপাচার্যের বক্তব্য

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেছেন, সরকার ২০২১ সালে পদোন্নতির ন্যূনতম যোগ্যতার নীতিমালা প্রকাশ করেছে। এই নীতিমালার নির্দেশিকার আলোকে নতুন নীতিমালা বা সংবিধি প্রণয়ন করতে হবে। ইউজিসি থেকেও এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে শিক্ষকরা ২০১৫ সালের নীতিমালার আলোকে পদোন্নতি চাচ্ছেন। এ নিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে এবং দ্রুত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পূর্বের কর্মসূচি

এর আগে দাবি আদায়ে মঙ্গলবার কর্মবিরতি পালন করেন শিক্ষকরা। আর দাবি আদায়ে রবিবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে আমরণ অনশনে বসেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জামাল উদ্দিন। তিনি সোমবার রাতে অসুস্থ হয়ে পড়লে শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ

একাধিক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, শিক্ষকদের এই আন্দোলনের কারণে তাদের পরীক্ষা ও নিয়মিত ক্লাস বন্ধ থাকায় সেশন জটে পড়তে হবে। এমনিতেই শিক্ষক সংকট থাকায় সিলেবাস সম্পন্ন হয় না, তাদের সেশন জট লেগে আছে। এই সেশন জট আরও দীর্ঘ হবে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে দ্রুত শিক্ষকদের সমস্যার সমাধানে সরকার এগিয়ে আসবে বলে তাদের বিশ্বাস।

দীর্ঘদিনের সমস্যা

প্রসঙ্গত, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পদোন্নতি দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে। সম্প্রতি তাদের দাবি বাস্তবায়নে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে উপাচার্যের কাছে আবেদন করা হয়। ওই আবেদনের কোনো সাড়া না পেয়ে তারা আন্দোলনে যেতে বাধ্য হন।