স্মৃতি রানী মুদি: এশিয়ান ইউনিভার্সিটিতে ভাষা ও পরিবেশের যুদ্ধে জয়ী হওয়ার গল্প
প্রথম আলো ট্রাস্টের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে চা-বাগান থেকে উঠে আসা শিক্ষার্থী স্মৃতি রানী মুদি তার অভিজ্ঞতা ভাগ করেছেন। তিনি বর্তমানে এশিয়ান ইউনিভার্সিটিতে দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত এবং পড়াশোনা শুরু হয়ে গেছে। এই প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া ও টিকে থাকাটা তার জন্য সহজ ছিল না।
ইংরেজি মাধ্যমের প্রথম ধাক্কা ও মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা
স্মৃতি রানী মুদি বলেন, "যখন ক্লাসে গিয়ে দেখলাম সবাই ইংরেজিতে কথা বলছে, তখন একবারও মনে হয়নি—কোথায় এসে ভর্তি হলাম? আমি আগে থেকেই জানতাম, আমাকে এই পরিবেশে পড়তে হবে। তাই নেতিবাচক ভাবনা আসেনি। বরং নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছি।"
তিনি স্বীকার করেন, ইংরেজিতে ক্লাস করা ও কথা বলার ভয় সবারই ছিল। তবে তিনি ও তার সহপাঠীরা দ্রুত এই ভাষাভীতি কাটিয়ে উঠতে চেষ্টা করেছেন। কঠিন সময়ে তার মনোবল ছিল একটাই—এটা পার হতে হবেই।
বাবার সংগ্রাম থেকে পাওয়া সাহস
স্মৃতি রানী মুদির মনোবলের উৎস তার বাবা। তিনি বলেন, "আমার বাবা ছিলেন আমাদের পরিবারে প্রথম কলেজ পাস করা ব্যক্তি। তিনি অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করেছেন। তার সংগ্রাম দেখেই আমি সাহস পেয়েছি। সন্তানরা বাবা-মায়ের যুদ্ধ দেখেই আসলে সাহস পায়।"
এই সাহস তাকে এশিয়ান ইউনিভার্সিটির কঠিন পরিবেশে টিকে থাকতে সহায়তা করেছে।
ছোটবেলার স্বপ্ন ও শিক্ষাজীবনের পথচলা
ছোটবেলায় স্মৃতি রানী মুদির বাবা চাইতেন তিনি ডাক্তার হন। কিন্তু জেএসসি পাসের পর তার আগ্রহ ছিল আর্ট নিয়ে পড়াশোনার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সফল না হয়ে তিনি ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ইকোনমিকসে ভর্তি হন। পরে বাবার উৎসাহে এশিয়ান ইউনিভার্সিটিতে পরীক্ষা দিয়ে চান্স পান।
তিনি বলেন, "ইংলিশে পড়ব বলে আমার অতটা আগ্রহ ছিল না। কিন্তু বাবার ইচ্ছায় চেষ্টা করলাম এবং চান্স পেয়ে গেলাম।"
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: চা-শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সচেতনতা
স্মৃতি রানী মুদি চা-শ্রমিকদের স্বাস্থ্য উন্নয়নে কাজ করতে চান। তিনি বলেন, "আমি চা-বাগানে কাজ করতে গিয়ে তাদের কষ্ট খুব কাছ থেকে দেখেছি। আমি চাইব, তাদের স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে সচেতনতা তৈরি করতে পারি। এই কাজ দিয়েই আমি শুরু করতে চাই।"
এশিয়ান ইউনিভার্সিটির ব্যস্ত জীবন ও সময় ব্যবস্থাপনা
এশিয়ান ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা, ক্লাব অ্যাকটিভিটি, কালচারাল প্রোগ্রামসহ নানা দায়িত্ব সামলাতে হয়। স্মৃতি রানী মুদি বলেন, "সবকিছু পুরোপুরি আয়ত্ত করতে পারিনি, কিন্তু চেষ্টা করছি। পরীক্ষার সময় অপ্রয়োজনীয় অ্যাকটিভিটি স্কিপ করি, বাকি সময় সবকিছুতেই অংশ নেওয়ার চেষ্টা করি।"
নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য পরামর্শ
স্মৃতি রানী মুদি ভবিষ্যতের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, "এখানকার শিক্ষকরা খুব ফ্রেন্ডলি। সমস্যা হলে তাদের সঙ্গে কথা বলুন, শেয়ার করুন। সিনিয়র অ্যাডভাইজার ও সুপারভাইজাররাও সাহায্য করেন। এখানে আসা মানে একটি বড় পরিবারের অংশ হওয়া।"
প্রথম আলো ট্রাস্ট তাকে ধন্যবাদ জানায় এবং তার স্বপ্ন পূরণের শুভকামনা করে।



