নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার আয়োজনে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালজয়ী উপন্যাস ‘চাঁদের পাহাড়’ নিয়ে ভার্চ্যুয়াল পাঠচক্রের আসর অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৩১ মে রাতে গুগল মিট অ্যাপে এই আয়োজনটি সম্পন্ন হয়।
উপন্যাসের কাহিনি ও তাৎপর্য
বাংলার প্রত্যন্ত গ্রামের তরুণ শঙ্করের অদম্য সাহস ও আফ্রিকার দুর্গম প্রকৃতিতে তার রোমাঞ্চকর অভিযানের গল্প নিয়ে এগিয়েছে ‘চাঁদের পাহাড়’ উপন্যাসের কাহিনি। প্রতিকূলতার মুখে দাঁড়িয়ে নিজের স্বপ্নকে তাড়া করার সাহসের জোগান দেয় এই গল্প। প্রতিকূল মরুভূমি, হিংস্র বন্য প্রাণী ও রহস্যময় ‘বানিয়াপ’ দানবের ভয়কে জয় করে শঙ্কর যেভাবে তার লক্ষ্যে পৌঁছেছিল, তা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। মূলত সোনা বা হীরা জয় করা নয়, বরং নিজের ভেতরের ভয়কে জয় করাই ছিল শঙ্করের এই অভিযানের সবচেয়ে বড় সার্থকতা।
আলোচকদের মতামত
সাধারণ সম্পাদক সানজিদ মুনতাসীর বলেন, ‘চাঁদের পাহাড়’ শুধু একটি রোমাঞ্চকর উপন্যাস নয়, এটি সাহস, অধ্যবসায় ও স্বপ্নপূরণের এক অনন্য দলিল। শঙ্করের চরিত্র তরুণদের নতুন কিছু জানার ও আবিষ্কারের অনুপ্রেরণা জোগায়। সহসভাপতি ইতু রানী কুরী বলেন, ‘শঙ্করের অভিযাত্রা আমাদের শেখায় যে জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন বাহ্যিক কোনো সম্পদ নয়, বরং নিজের ভয় ও সীমাবদ্ধতাকে জয় করা। এই উপন্যাস আজও পাঠকদের সাহসী হতে উদ্বুদ্ধ করে।’
অন্যান্য অংশগ্রহণকারী
পাঠচক্রে আরও যুক্ত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক সিফাত হোসেন, সদস্য তুহিন শুভ্র বসু ও পাঠচক্রের সঞ্চালক ফারিহা হোসেন। সবার অংশগ্রহণে এই আয়োজনটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভা নিয়মিত এ ধরনের সাহিত্যিক আয়োজন করে থাকে, যা তরুণদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস ও সাহিত্যের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।



