লালপুরে শিক্ষিকার ডাস্টার নিক্ষেপে শিক্ষার্থীর জিহ্বা কাটার অভিযোগ
লালপুরে শিক্ষিকার ডাস্টারে শিক্ষার্থীর জিহ্বা কাটার অভিযোগ

নাটোরের লালপুর উপজেলায় এক শিক্ষিকার ছোড়া ডাস্টারের আঘাতে প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর জিহ্বা কেটে যাওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। আহত শিশু মো. তাওহীদকে (৬) আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) উপজেলার ওয়ালিয়া শহীদ স্মৃতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত শিক্ষিকা হলেন হাফিজা খাতুন, যিনি ওই বিদ্যালয়েরই শিক্ষিকা।

ঘটনার বিবরণ

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ক্লাস চলাকালে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষিকা একটি ডাস্টার ছুড়ে মারেন। ডাস্টারটি তাওহীদের চোয়ালে সজোরে আঘাত করলে তার জিহ্বা কেটে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। এতে শিশুটি রক্তাক্ত হয়ে পড়ে এবং শ্রেণিকক্ষে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

প্রথমে তাওহীদকে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ধুপইল সার্জিক্যাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে সেখানে তার অস্ত্রোপচার চলছে বলে পরিবার জানিয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পিতার দাবি ও শিক্ষিকার বক্তব্য

তাওহীদের বাবা সোহানুর রহমান দোষী শিক্ষিকার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যেন কোনো শিক্ষক এভাবে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন চালাতে না পারেন, সেজন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকার বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

অভিযোগ অস্বীকার করে শিক্ষিকা হাফিজা খাতুন বলেন, শিক্ষার্থীদের মনোযোগ আকর্ষণের জন্য তিনি বেঞ্চে ডাস্টার দিয়ে আঘাত করেছিলেন। সরাসরি কোনো শিক্ষার্থীর মুখে ডাস্টার লাগেনি বলেও দাবি করেন তিনি।

বিদ্যালয় ও প্রশাসনের বক্তব্য

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহফুজুর রহমান জানান, ক্লাস চলাকালে শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত চেঁচামেচি করছিল। শৃঙ্খলা ফেরাতে শিক্ষিকা ডাস্টার ছুড়ে মারলে সেটি তাওহীদের চোয়ালে আঘাত করে। এ ঘটনায় তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জুলহাস হোসেন সৌরভ বলেন, ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।