এসএসসি পরীক্ষার্থীর হৃদয়বিদারক চিঠি: 'কিআ, তোমাকে আর প্রিয় বললাম না'
একটি আবেগময় চিঠি শিক্ষার্থী ও পত্রিকার মধ্যে অদৃশ্য বন্ধনের গল্প বলে। নওগাঁ সেন্ট্রাল গার্লস হাইস্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থী জেরিন মাশিয়াত অবনী কিআ পত্রিকাকে লেখা চিঠিতে আট বছর ধরে চিঠি না ছাপানোর বেদনা প্রকাশ করেছেন।
আট বছরের অপেক্ষা ও হতাশা
দীর্ঘ আট বছর ধরে অবনী কিআ পত্রিকা পড়ছেন এবং নিয়মিত চিঠি লিখেছেন। তবে একটি চিঠিও প্রকাশিত না হওয়ায় তিনি গভীর হতাশা অনুভব করছেন। "আট বছরে তোমাকে অনেকবার চিঠি লিখেছি, তুমি একবারও ছাপোনি" – এই সরল বাক্যটি তার মনোকষ্টের মাত্রা প্রকাশ করে।
এসএসসি পরীক্ষার আগের দিনগুলিতে পড়ার চাপ বেশি থাকলেও তিনি পত্রিকা পড়া বাদ দেননি। গত মাসে লেখা চিঠিটিও না ছাপানোয় তার হতাশা চরমে পৌঁছেছে। "এবার কিন্তু আমি সত্যিই খুব হতাশ হয়েছি" – এই স্বীকারোক্তি পাঠকের হৃদয় স্পর্শ করে।
বিদায়ের সিদ্ধান্ত ও শেষ আবেদন
অবনী এখন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে ভবিষ্যতে আর কিআ পত্রিকাকে চিঠি লিখবেন না। তবে তিনি এই চিঠিটি প্রকাশের জন্য অনুরোধ করছেন না, বরং শুধু পড়ার জন্য আবেদন জানিয়েছেন। "জানি, বলে লাভ নেই; কিন্তু তুমি আমার এই চিঠিটা পড়লেই খুশি হব" – এই মর্মস্পর্শী কথাগুলো তার সরলতার পরিচয় দেয়।
তিনি গত মাসের কিআ সংখ্যার প্রশংসা করে বলেছেন, "তাতার দুটো কমিকস একসঙ্গে পেয়ে খুব খুশি হয়েছি। 'নীরিষ্কপু' গল্পটা খুব ভালো লেগেছে"। এই মন্তব্য প্রমাণ করে যে তার সমালোচনা সৃষ্টিশীল ও ইতিবাচক।
কিআ পত্রিকার সাড়া ও শুভকামনা
কিআ পত্রিকার পক্ষ থেকে অবনীকে সাড়া দিয়ে বলা হয়েছে, "এসএসসি পরীক্ষার আগে তোমাকে হতাশামুক্ত রাখা আমার দায়িত্ব। চিঠি দেখে আশা করি তোমার হতাশা কেটে যাবে"। পত্রিকা তাকে খুব ভালো পরীক্ষা দেওয়ার জন্য শুভকামনা জানিয়েছে এবং পরীক্ষা শেষে আবার কথা বলার আশ্বাস দিয়েছে।
এই চিঠিপত্র বিভাগটি পাঠকদের মধ্যে গভীর আবেগ সৃষ্টি করেছে। তানভীর আহমেদ সৃজনের "নীরিষ্কপু" গল্পের মতোই এই চিঠিটি শিক্ষার্থীর মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা ও সৃজনশীল প্রকাশের গুরুত্ব তুলে ধরে।
শিক্ষার্থীদের লেখালেখির প্রতি আগ্রহ ও পত্রিকার সাথে তাদের সম্পর্কের এই গল্প বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় সৃজনশীল প্রকাশের প্রয়োজনীয়তা স্মরণ করিয়ে দেয়।



