বগুড়ার শেরপুরে দাখিলের গণিত পরীক্ষায় পুরোনো সিলেবাসের প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া দায়িত্ব পালনে অবহেলায় পরীক্ষার সব কার্যক্রম থেকে হল সুপার ও চার কক্ষ পরিদর্শককে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত কমিটি গঠন
শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান হিমু সোমবার সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন- শেরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল জোব্বার ও শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার জাকির হোসেন।
অব্যাহতি পাওয়া শিক্ষকরা
অব্যাহতি পাওয়া শিক্ষকরা হলেন- হল সুপার হায়দার আলী, কক্ষ পরিদর্শক হাসনা খাতুন, জোবায়দা খাতুন, কাওছার আহম্মেদ ও মামুনুর রশিদ।
ঘটনার বিবরণ
অভিযোগে জানা গেছে, গত ২৬ এপ্রিল বগুড়ার শেরপুর শহীদিয়া আলিয়া কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রের ১০১ ও ১০২ নম্বর কক্ষে মোট ২৯ জন দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেন। এর মধ্যে ফুলতলা দাখিল মাদ্রাসার ১০ জন, রাজারদীঘি মাদ্রাসার ১৩ জন, চকসাদি মাদ্রাসার তিনজন এবং উলিপুর আমেরিয়া মাদ্রাসার তিনজন। এরা সবাই নিয়মিত ও নতুন সিলেবাসের শিক্ষার্থী।
ওই দিন গণিত পরীক্ষা শুরু হলে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের হাতে পুরোনো ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র তুলে দেন কক্ষ পরিদর্শকরা। এই ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফেরার পর শিক্ষার্থীরা টের পেয়ে পরিবার ও নিজ প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। এতে অভিভাবকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা তাদের পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তার আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
কেন্দ্র সচিবের বক্তব্য
এ প্রসঙ্গে বগুড়ার শেরপুর শহীদিয়া আলিয়া কামিল মাদ্রাসার কেন্দ্র সচিব অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান জানান, এটি অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল। পরীক্ষার সময় বিষয়টি কারো নজরে আসেনি। পরবর্তীতে টের পেয়ে মাদ্রাসা বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, এতে পরীক্ষার্থীদের ফলাফলে কোনো সমস্যা হবে না।
প্রশাসনের পদক্ষেপ
বগুড়ার শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান হিমু জানান, দাখিলের গণিত পরীক্ষায় নিয়মিত শিক্ষার্থীদের পুরোনো সিলেবাসের প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনায় তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া দায়িত্ব পালনে অবহেলায় পরীক্ষার সব কার্যক্রম থেকে হল সুপার ও চার কক্ষ পরিদর্শককে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।



