চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্কুল ফিডিং প্রকল্পের খাবার খেয়ে শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। এ ছাড়া সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে আগামী ১৫ দিনের জন্য পাউরুটি সরবরাহ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কমিটির জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ঘটনার বিবরণ
গত বুধবার সদর উপজেলার সালিমডোলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির দুই শিক্ষার্থী স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়। পরে আরও ১৬ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে মোট ১৮ জন শিক্ষার্থী হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়। তাদের মধ্যে ১০ জনকে ভর্তি করা হয়।
সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ২১৩টি বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং প্রকল্পের খাবার সরবরাহ করে গ্রাম উন্নয়ন কর্ম (গাক) নামের একটি বেসরকারি সংস্থা। ইউএনও মারুফ আফজাল জানান, জরুরি সভায় আগামী ১৫ দিনের জন্য পাউরুটি সরবরাহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ডিম ও কলা সরবরাহ করতে পারবে প্রতিষ্ঠানটি। সরবরাহ করা ডিম ও কলা অভিভাবকদের নিয়ে গঠিত কমিটি যাচাই করে দেখবে।
নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা
ইউএনও আরও বলেন, যে খাবার খেয়ে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়েছিল, ওই খাবারের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলো ঢাকায় বিএসটিআইয়ের ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এর আগেও গাকের খাবার খেয়ে শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। সে সময়ও খাবারের নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাব পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল; পাশাপাশি গাককে খাবার সরবরাহ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে সে সময়ের নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদন এখনো উপজেলা প্রশাসনের কাছে আসেনি।
জিডি ও আইনি ব্যবস্থা
এদিকে স্কুল ফিডিং প্রকল্পের খাবার খেয়ে ১৮ শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় থানায় জিডি করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দুরুল হোদা। গতকাল সকালে জিডিটি করা হয় বলে জানিয়েছেন সদর মডেল থানার ওসি একরামুল হোসাইন। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দুরুল হোদা বলেন, বুধবার দুপুরে স্কুল ফিডিং প্রকল্পের ডিম ও পাউরুটি খেয়ে ১৮ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে যায়। তাদের মধ্যে ১০ জনকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে গতকাল বিকেলে সব শিক্ষার্থীকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ছাড়পত্র দেয়। তারা ইতিমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।



