১৬ বছর পর শুরু হচ্ছে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা, সারাদেশে একযোগে চলছে বাংলা বিষয়ের মূল্যায়ন
১৬ বছর পর শুরু প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা, বাংলা বিষয়ে আজ মূল্যায়ন

১৬ বছর পর পুনরায় শুরু হলো প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা

দীর্ঘ ১৬ বছর বিরতির পর আজ থেকে সারাদেশে একযোগে শুরু হয়েছে ২০২৫ সালের স্থগিত হওয়া প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা। প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে প্রথম দিনের বাংলা বিষয়ের পরীক্ষা চলবে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এই তথ্য নিশ্চিত করেছে, যা শিক্ষা খাতে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

পরীক্ষার সময়সূচি ও অনুমোদন প্রক্রিয়া

এর আগে, গত ৫ মার্চ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সভায় পরীক্ষার সূচি অনুমোদন করা হয়। পরবর্তীতে অধিদপ্তরের নির্দেশনায় বিস্তারিত সময়সূচি প্রকাশ করা হয়, যা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। সূচি অনুযায়ী, ১৬ এপ্রিল ইংরেজি, ১৭ এপ্রিল প্রাথমিক গণিত এবং ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ও প্রাথমিক বিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি পরীক্ষা সকাল ১০টায় শুরু হয়ে আড়াই ঘণ্টা ধরে চলবে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য একটি কঠোর কিন্তু ন্যায্য মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করছে।

পার্বত্য জেলায় ভিন্ন সময়সূচি ও বিশেষ ব্যবস্থা

তবে দেশের তিন পার্বত্য জেলা—রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে ভিন্ন সময়সূচিতে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এসব জেলায় ১৭ এপ্রিল প্রাথমিক গণিত পরীক্ষার মাধ্যমে পরীক্ষা শুরু হবে। এরপর ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ও প্রাথমিক বিজ্ঞান, ১৯ এপ্রিল বাংলা এবং ২০ এপ্রিল ইংরেজি বিষয়ের পরীক্ষার মাধ্যমে সেখানে বৃত্তি পরীক্ষা শেষ হবে। এদিকে, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যা অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা নীতির একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইতিহাস ও পূর্ববর্তী পরিস্থিতি

এর আগে, ২০০৮ সালে সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা হয়েছিল বাংলাদেশে। ২০০৯ সাল থেকে ‘প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী’ (পিইসি) পরীক্ষা শুরু হওয়ায় আলাদা করে এই পরীক্ষাটি বন্ধ হয়ে যায়। মাঝে ২০২২ সালে পরীক্ষামূলকভাবে একবার এই পরীক্ষা নেওয়া হলেও পরবর্তী বছরগুলোতে তা আবার স্থগিত ছিল। এই দীর্ঘ বিরতির পর পুনরায় পরীক্ষা শুরু হওয়ায় শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন গতি সঞ্চারিত হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন।

এই পরীক্ষার মাধ্যমে দেশের প্রাথমিক স্তরের মেধাবী শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করে তাদের জন্য বৃত্তি প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। কর্তৃপক্ষের আশা, এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব গড়ে তুলতে সাহায্য করবে এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।