বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগের সিলেবাস প্রকাশ করেছে এনটিআরসিএ
বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) অষ্টম নিয়োগ পরীক্ষার সিলেবাস প্রকাশ করেছে। প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, সুপার এবং সহকারী সুপার পদে নিয়োগের জন্য এই সিলেবাস নির্ধারণ করা হয়েছে। গত শুক্রবার (১৩ মার্চ ২০২৬) কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইটে আনুষ্ঠানিকভাবে সিলেবাসটি প্রকাশ করা হয়।
পরীক্ষার বিষয় ও নম্বর বিভাজন
প্রকাশিত সিলেবাস অনুযায়ী, মোট আটটি বিষয়ে ৮০ নম্বরের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। বিষয়ভিত্তিক নম্বর বণ্টন নিম্নরূপ:
- বাংলা: ১০ নম্বর
- ইংরেজি: ১০ নম্বর
- আইসিটি: ১০ নম্বর
- মানসিক দক্ষতা ও গাণিতিক যুক্তি: ৫ নম্বর
- বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি: ৫ নম্বর
- প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা: ১০ নম্বর
- আর্থিক ব্যবস্থাপনা: ১০ নম্বর
এছাড়াও, বিভিন্ন অধিদপ্তরের পরীক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) পরীক্ষার্থীদের জন্য সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় ২০ নম্বর বরাদ্দ রয়েছে। কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের পরীক্ষার্থীদের জন্য কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থাপনা ও কারিগরি শিক্ষাসংশ্লিষ্ট মৌলিক জ্ঞানে ২০ নম্বর এবং মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের পরীক্ষার্থীদের জন্য মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাপনা, আল কোরআন, হাদিস, ফিকাহ, আরবি ভাষা ও ইসলামী শিক্ষায় ২০ নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।
আবেদন ও শূন্য পদসংখ্যা
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, সুপার এবং সহকারী সুপার পদে নিয়োগের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া গত ২৬ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়েছে। মোট ৮৬ হাজার ৪৪৫ জন প্রার্থী এসব পদে আবেদন করেছেন। ১০০ নম্বরের পরীক্ষার মাধ্যমে এই নিয়োগ সম্পন্ন হবে বলে কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে।
এনটিআরসিএ প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, তিনটি অধিদপ্তরের আওতাধীন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোট ১৩ হাজার ৫৯৯টি শূন্য পদ রয়েছে। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠানে শূন্য পদ রয়েছে ১০ হাজার ২৭৮টি। কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় শূন্য পদ ১৪০টি এবং মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় শূন্য পদ রয়েছে ৩ হাজার ১৩১টি।
পরীক্ষার সম্ভাব্য সময়সূচি
বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) থেকে জানানো হয়েছে, এই নিয়োগ পরীক্ষা আগামী এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিত হতে পারে। কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইটে সিলেবাসটি বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
শিক্ষক নিয়োগের এই প্রক্রিয়া বেসরকারি শিক্ষা খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রচুর সংখ্যক আবেদনকারী এবং উল্লেখযোগ্য শূন্য পদসংখ্যা এই নিয়োগকে অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক করে তুলেছে। পরীক্ষার্থীদের জন্য সিলেবাস অনুসারে প্রস্তুতি নেওয়া এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।



