শিক্ষামন্ত্রী: অনলাইন ক্লাস চাই না, কিন্তু বিশ্বের ধারায় এগোতে হবে
শিক্ষামন্ত্রী: অনলাইন ক্লাস চাই না, কিন্তু বিশ্বের ধারায় এগোতে হবে

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তিনি নিজেও অনলাইন ক্লাস চান না, কিন্তু বিশ্বের বর্তমান প্রবণতা ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির কারণে বাংলাদেশকেও সেই পথে এগোতে হবে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা উপলক্ষে সিলেট বিভাগের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

অনলাইন শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা ও চ্যালেঞ্জ

মন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট তেল সংকটের প্রভাব স্কুল ব্যবস্থাপনায় পড়েছে, যার ফলে অনলাইন ও অফলাইন ক্লাসের সমন্বয় করতে হয়েছে। এই পদক্ষেপ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে তিনি সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছেন। প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ স্কুলের শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী এবং অভিভাবকদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়েছে, এবং তাদের মধ্যে একজনও অনলাইন ক্লাসের পক্ষে নয়।

বিশ্বের ধারায় সমন্বয়

ড. মিলন জোর দিয়ে বলেন, "আমি কী চাই? আমিও চাই না। কিন্তু পৃথিবী চায়।" তার মতে, ডিজিটাল যুগে শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও গতিশীল রাখতে হলে অনলাইন প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার অপরিহার্য হয়ে উঠেছে, যদিও এটি অনেকের কাছেই পছন্দনীয় নয়। তিনি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের চাহিদা মেটাতে এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এই পরিবর্তনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কোচিং সেন্টার ও ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল নিয়ন্ত্রণ

এসময় শিক্ষামন্ত্রী কোচিং সেন্টারগুলোকে আইনের কঠোর আওতায় আনার উদ্যোগের কথা জানান। তার মতে, এই প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক সময় অতিরিক্ত ফি নিয়ে এবং অনিয়মিত কার্যক্রম চালিয়ে শিক্ষার্থীদের উপর চাপ সৃষ্টি করে, যা নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। একইসঙ্গে, তিনি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোকে সরকারি নিয়ন্ত্রণে আনার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো শিক্ষার মান নিশ্চিত করা এবং সকল শিক্ষার্থীর জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করা, যাতে দেশের শিক্ষা খাত আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর হয়।

শিক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্য বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ডিজিটাল রূপান্তর ও নীতিগত সংস্কারের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সহায়ক হতে পারে।