শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কর্মপরিকল্পনা: মন্ত্রিসভার বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত হবে পরবর্তী মন্ত্রিসভার বৈঠকে। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, সশরীর ও অনলাইন মিশ্র পদ্ধতিতে ক্লাস হবে কি না বা অন্য কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে কি না, তার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এ সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে।
আলোচনা ও সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়া
শিক্ষামন্ত্রী জানান, মন্ত্রিসভার বৈঠকের আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক করবে। সম্ভবত অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার পর কর্মপরিকল্পনাটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবে। সাধারণত মন্ত্রিসভার সাপ্তাহিক বৈঠক বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয়, তাই পরবর্তী বৈঠক আগামী ৯ এপ্রিল হতে পারে।
গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরবর্তী মন্ত্রিসভা-বৈঠকে প্রস্তাব উপস্থাপন করবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেছিলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আলাদা নির্দেশনা দেবে এবং শিক্ষা কার্যক্রম যেন ব্যাহত না হয়, তা বিবেচনায় রাখা হবে।
মিশ্র পদ্ধতির প্রস্তাব ও চ্যালেঞ্জ
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আপাতত সপ্তাহে ছয় দিন ক্লাস নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। এর মধ্যে জোড়-বিজোড় মিলিয়ে তিন দিন অনলাইন এবং তিন দিন সশরীর পাঠদানের বিকল্প বিবেচনায় রাখা হয়েছে। অর্থাৎ এক দিন অনলাইনে ক্লাস হলে পরদিন সশরীর ক্লাস নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। অনলাইনে ক্লাস হলেও শিক্ষকেরা সশরীর উপস্থিত থেকে পাঠদান করবেন এবং ব্যবহারিক ক্লাস সশরীরে অনুষ্ঠিত হবে।
তবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কার্যকরভাবে অনলাইনে ক্লাস নেওয়া বেশ কঠিন হবে বলে মনে করছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা। ঢাকার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন প্রধান শিক্ষক উল্লেখ করেন, ঢাকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রমজীবী ও দরিদ্র পরিবারের সন্তানেরা পড়ে এবং তাদের সবাইকে অনলাইনে ক্লাসের আওতায় আনা অসম্ভব। করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির সময়েও অনলাইন ক্লাসে অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে আনা যায়নি।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র জানায়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীকে নিয়ে অনলাইনে ক্লাস নেওয়া কঠিন এবং কীভাবে সমস্যাটি সমাধান করা যায়, সে বিষয়ে চিন্তাভাবনা চলছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মন্ত্রিপরিষদ থেকে আসবে।
পটভূমি ও প্রাসঙ্গিকতা
পবিত্র রমজান, ঈদুল ফিতরসহ বিভিন্ন উপলক্ষে প্রায় ৪০ দিনের ছুটির পর গত ২৯ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলেছে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সংকটে পড়েছে অনেক দেশ, যার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে জ্বালানির ওপর চাপ কমাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আংশিক অনলাইন পাঠদান চালুর বিষয়টি সামনে এসেছে। সরকারের এই উদ্যোগ বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পাশাপাশি শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।



