প্রত্যেক উপজেলায় একটি মাদ্রাসা সরকারিকরণের প্রস্তাব সংসদ সদস্যের
প্রত্যেক উপজেলায় একটি মাদ্রাসা সরকারিকরণের প্রস্তাব

দেশের প্রত্যেকটি উপজেলায় একটি করে মাদ্রাসাকে সরকারি করার প্রস্তাব দিয়েছেন নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুস সাত্তার সরকার। মঙ্গলবার (১৬ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের অষ্টম দিন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ প্রস্তাব করেন।

বক্তব্যে দোষারোপের সমালোচনা

মোহাম্মদ আব্দুস সাত্তার সরকার বলেন, সংসদে বিভিন্ন সময় একে অপরকে দোষারোপ করে বক্তব্য দেওয়া হয়। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যেমন বলা হয়েছে, ফখরুল ইসলাম যেমন ইসলাম নন, জামায়াতে ইসলামীও ইসলাম নয়। তাহলে সরকার দেশের সব মাদ্রাসা সরকারি করে প্রমাণ করুক যে তারা ইসলামবান্ধব সরকার।”

মাদ্রাসা সরকারিকরণের প্রয়োজনীয়তা

তিনি বলেন, “প্রত্যেক জেলায় সরকারি স্কুল ও কলেজ রয়েছে। তবে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হলেও মাদ্রাসা সরকারিকরণের বিষয়ে দৃশ্যমান কোনও উদ্যোগ আছে কিনা, তা স্পষ্ট নয়।”

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আব্দুস সাত্তার সরকার বলেন, “বাংলাদেশ মুসলিম অধ্যুষিত দেশ। দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে মুসলমানরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রাক-প্রাথমিক পর্যায় থেকেই নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা দেওয়া হয়। তাই প্রত্যেকটি উপজেলায় একটি করে মাদ্রাসাকে সরকারি করার প্রস্তাব করছি।”

বাজেটের সমালোচনা

বাজেটের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “এবারের বাজেটের নেতিবাচক দিকগুলোর মধ্যে রয়েছে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে নিত্যপণ্যের বাজারে চাপ বৃদ্ধি। রাজস্ব আদায়ের উচ্চ লক্ষ্যমাত্রার ফলে সাধারণ মানুষের ওপর পরোক্ষ করের চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।” পাশাপাশি কালো টাকা সাদা করার সুযোগও রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, “অর্থনীতিবিদদের মতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখা এবারের বাজেটের বড় চ্যালেঞ্জ। বাজার অস্থির থাকলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়বে।”

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঋণ ও বাজেট ঘাটতি

আব্দুস সাত্তার সরকার বলেন, “বড় ও দীর্ঘস্থায়ী বাজেট ঘাটতি সুদের হার বাড়াতে পারে, বিনিয়োগ কমিয়ে দিতে পারে এবং সরকার ও করদাতাদের ওপর ঋণের চাপ বাড়াতে পারে। এই ঘাটতি মেটাতে ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়লে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও বাড়বে।”

তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকারের মোট ঋণের পরিমাণ ২১ লাখ কোটি টাকার বেশি, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৩৮ দশমিক ৯ থেকে ৪১ শতাংশের মধ্যে অবস্থান করছে। এছাড়া বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ প্রায় ৭৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।