দারিদ্র্যের মাঝে স্বপ্নের পথে হাফেজ আরাফাত
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজার এলাকায় ঢাকা–হোমনা সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে যাত্রী পরিবহন করছেন হাফেজ মো. আরাফাত হোসাইন (১৭)। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে ছোটবেলা থেকেই তাকে সংসারের আয়–রোজগারে যুক্ত হতে হয়েছে। পড়াশোনার পাশাপাশি সে রিকশা চালিয়ে আয় করে, দিনের একটি অংশে কাজ করে এবং বাকি সময়ে লেখাপড়ায় মনোযোগ দেয়।
আরাফাতের পটভূমি ও পরিবার
আরাফাত কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার নোয়াপুস্করিনী গ্রামের বাসিন্দা এবং নোয়াপুস্করিনী কেরামতিয়া দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা মো. নজরুল ইসলামও একজন ব্যাটারিচালিত রিকশাচালক, মা রোকসানা বেগম গৃহিণী। বড় ভাই ইয়াছিন মিয়া দারিদ্র্যের কারণে পড়াশোনা করতে পারেননি এবং বর্তমানে সিএনজিচালিত অটোরিকশার মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করছেন। বড় বোন তানিসা আক্তারের বিয়ে হয়েছে, আর ছোট বোন তাছনিয়া আক্তার স্থানীয় একই মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণিতে পড়ছে।
শিক্ষা ও স্বপ্নের গল্প
আরাফাত হোসাইন মুরাদনগরের পরমতলা মাহমুদিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা থেকে পবিত্র কোরআনের ৩০ পারা মুখস্থ করে হাফেজ হয়েছেন। পরে তিনি নোয়াপুস্করিনী কেরামতিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ভর্তি হন এবং বর্তমানে দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। তার স্বপ্ন হলো লেখাপড়া শেষ করে একটি ভালো চাকরি করা এবং সেই উপার্জন দিয়ে পরিবারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনা।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া ও সমর্থন
গ্রামের বাসিন্দা ও বই ব্যবসায়ী কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, আরাফাতের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ দেখে স্থানীয় মানুষ তাকে উৎসাহ দেন। তিনি বলেন, "এত কষ্টের মধ্যেও ছেলেটির পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ সত্যিই প্রশংসনীয়।" লাজৈর গ্রামের স্কুলশিক্ষক নাছিমা আক্তার মন্তব্য করেন, "এমন শিক্ষার্থীদের সহায়তায় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন। ভবিষ্যতে আরাফাত হোসাইনরাই দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।"
মাদ্রাসার সহযোগিতা
নোয়াপুস্করিনী কেরামতিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মো. আবুল হোসাইন বলেন, মাদ্রাসার পক্ষ থেকে আরাফাতকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এই সহায়তা অব্যাহত থাকবে। এই সমর্থন তার শিক্ষা ও জীবিকা চালিয়ে যেতে সাহায্য করছে।
এই গল্পটি দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াই এবং শিক্ষার প্রতি অটুট আগ্রহের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ, যা অন্যান্য তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতে পারে।



