কুষ্টিয়ার মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতন: ১০ বছরের শিক্ষার্থী সংকটাপন্ন, যৌন নির্যাতনের আলামত
কুষ্টিয়ার মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতন: ১০ বছরের শিক্ষার্থী সংকটাপন্ন

কুষ্টিয়ার মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতনের ঘটনায় ১০ বছরের শিক্ষার্থী সংকটাপন্ন

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার একটি কওমি মাদ্রাসায় ১০ বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে সংকটাপন্ন অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শিশুটির শ্বাসকষ্ট হচ্ছে এবং সে কথা বলতে পারছে না। অক্সিজেন মাস্ক পরিয়ে রাখা হয়েছে। প্রাথমিক গাইনি পরীক্ষায় শিশুটির সতীচ্ছদ পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মতো যৌন নির্যাতনের আলামত পাওয়া গেছে বলে চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন।

মায়ের অভিযোগ ও মাদ্রাসার প্রতিক্রিয়া

শিশুটির মা কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তিনি জানান, সাত-আট মাস আগে তার মেয়েকে ওই মাদ্রাসায় ভর্তি করেছিলেন। মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতনের খবর পেয়ে দুই-তিন মাস আগে ভর্তি বাতিল করতে গেলে পরিচালকের স্ত্রী তাকে আশ্বস্ত করেন। গত শুক্রবার মেয়ে ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাওয়ার কথা বললেও রোববার মা মাদ্রাসায় গিয়ে দেখেন মেয়ের পেট ও বাঁ পা ফুলে গেছে এবং অবস্থা সংকটাপন্ন।

মা মেয়েকে কুষ্টিয়ার একটি রোগনির্ণয় কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে আলট্রাসনোগ্রাম করান, যেখানে অবস্থার অবনতি ধরা পড়ে। পরে সোমবার সকালে তিনি মেয়েকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করেন। হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর কে বিশ্বাস বলেন, শিশুটি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এবং প্রাথমিকভাবে যৌন নির্যাতনের আলামত পাওয়া গেছে। নিশ্চিতকরণের জন্য ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের তদন্ত ও পরিচালকের বক্তব্য

এ ঘটনায় পুলিশ মাদ্রাসার পরিচালককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। ভেড়ামারা থানার এক উপপরিদর্শক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, পরিচালককে তার বাড়ি থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার দূর থেকে আটক করা হয়েছে। তবে এখনো তার বিরুদ্ধে মামলা হয়নি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মাদ্রাসার পরিচালক মুঠোফোনে যোগাযোগে দাবি করেন, তিনি ছয় দিন ধরে ইতেকাফে রয়েছেন এবং শিশুটির পায়ে ফোড়া হওয়ায় অসুস্থ হতে পারে। তিনি নিজেকে ডায়াবেটিক রোগী দাবি করে বলেন, শিশুটিকে কোনো নির্যাতন করা হয়নি এবং তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শিশুটির অক্সিজেন স্যাচুরেশন কমে যাচ্ছিল, যা অক্সিজেন প্রদানের পর স্বাভাবিক অবস্থায় আছে। শিশুটির মা হাসপাতালে তার সঙ্গেই রয়েছেন, তাদের বাড়ি কুষ্টিয়ায়। এই ঘটনা শিশু নির্যাতন ও মাদ্রাসা ব্যবস্থাপনায় নিরাপত্তা সংকটের গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।