রাজধানীর মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের স্টোররুমে আগুন লাগার ঘটনায় আরও এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম শহীদ হোসাইন হৃদয় (৩০)। তিনি ওই অধিদপ্তরের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর। শনিবার রাতে মিরপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ নিয়ে এ ঘটনায় মোট চারজন গ্রেপ্তার হলো। গ্রেপ্তার হওয়া সবাই প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মী বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ও রিমান্ড
এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া তিনজন হলেন— পরিচ্ছন্নতাকর্মী (মাস্টাররোল) মো. আসমাউল ইসলাম (৩০), গবেষণা কর্মকর্তা ও স্টোর ইনচার্জ মো. জিন্নাত আলী বিশ্বাস (৫৫) ও স্টোরকিপার (মাস্টাররোল) মো. হুমায়ুন কবির খান (৫৯)। রোববার গ্রেপ্তার চার আসামিকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক রাজিব হোসেন তাঁদের সাত দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলা ও অভিযোগ
আগুন লাগার ঘটনায় গত শুক্রবার মিরপুর মডেল থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সাধারণ প্রশাসন শাখার সহকারী পরিচালক মো. সাজ্জাদ হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দুইটা থেকে ভোর সাড়ে চারটার মধ্যে বোরকা পরা এক ব্যক্তি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নতুন ভবনের দ্বিতীয় তলার অস্থায়ী স্টোররুমের তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন। ওই ব্যক্তি মোট পাঁচবার কক্ষটিতে ঢুকে কিছু মালামাল ও ল্যাপটপ বের করে নিয়ে যান। শেষবার বের হওয়ার সময় তিনি কক্ষে আগুন লাগিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যান।
পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগ
পুলিশ বলছে, চুরির পর স্টোররুমে থাকা ল্যাপটপসহ অন্য মালামালের ক্ষতি করতেই উদ্দেশ্যমূলকভাবে আগুন দেওয়া হয়। আসমাউল ইসলাম নামের এক পুরুষ পরিচ্ছন্নতাকর্মী বোরকা পরে সেখানে আগুন দেন। আগুন দিতে তাঁর সঙ্গে পাঁচ লাখ টাকার চুক্তি হয়। নগদ ৮০ হাজার টাকা দেওয়া হয় তাঁকে। সেই টাকা দিয়ে তিনি আগুন লাগানোর বিভিন্ন জিনিসপত্র কিনে আনেন। মূলত ওই প্রতিষ্ঠানের চার-পাঁচজন মিলে আগুন লাগানোর পরিকল্পনা করেন। আগুনের কারণে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের দুই থেকে তিন কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
ক্ষয়ক্ষতি
ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ওই স্টোররুমে ৭৩৫টি ল্যাপটপ ছিল। আগুনে ১৪০টি ল্যাপটপ সম্পূর্ণ পোড়া অবস্থায় পাওয়া যায়। এ ছাড়া ৩৩টি আংশিক ও ২৯টি অধিক মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৪৫০টি ল্যাপটপ ভালো অবস্থায় পাওয়া গেলেও ৮৩টি ল্যাপটপের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। ল্যাপটপের ব্যাগসহ অন্য সরঞ্জামও নষ্ট হয়েছে।
আগুনের ঘটনা নিয়ে গত শনিবার রাতে সংবাদ সম্মেলন করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোস্তাক সরকার। তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে বিতরণের জন্য ল্যাপটপগুলো স্টোররুমে রাখা হয়েছিল। সেখানে কেন আগুন দেওয়া হলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অনেকগুলো বিষয় সামনে রেখেই তদন্ত চলছে। আসামিদের নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে বিস্তারিত জানা যাবে।



