লাইভ সায়েন্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমাদের জীবনে সবচেয়ে দ্রুত বেড়ে ওঠার সময় বয়ঃসন্ধিকাল নয়, বরং জন্মের পর প্রথম দুই বছর। যুক্তরাজ্যের বাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শন কামিং জানান, এই সময়টাতেই মানুষের বৃদ্ধির গতি সবচেয়ে বেশি থাকে।
জন্মের পর প্রথম বছর
একটি শিশু জন্মের পর প্রথম এক বছরে প্রায় এক ফুট লম্বা হয়ে যায়। এই হার বয়ঃসন্ধিকালের চেয়েও দ্বিগুণের বেশি। কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অ্যাডাম ব্যাক্সটার-জোনস জানান, মেয়েরা মাত্র ১৮ মাস বয়সেই তাদের প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থার মোট উচ্চতার অর্ধেক হয়ে যায়। আর ছেলেদের ক্ষেত্রে এই উচ্চতায় পৌঁছাতে সময় লাগে মাত্র ২৪ মাস।
শৈশবের শেষ দিকে
চার বছর বয়স থেকে বয়ঃসন্ধির শুরু পর্যন্ত বৃদ্ধির হার কমে বছরে প্রায় ২ থেকে ২ দশমিক ৫ ইঞ্চিতে দাঁড়ায়। এর পরেই শুরু হয় মানুষের বেড়ে ওঠার দ্বিতীয় দ্রুততম পর্যায় বা বয়ঃসন্ধিকাল। গবেষণায় দেখা গেছে, এই সময়ে গড়ে মেয়েরা বছরে ৩ দশমিক ৫ ইঞ্চি এবং ছেলেরা ৪ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হতে পারে।
বৃদ্ধির গতি
শরীরের বৃদ্ধি সব সময় সমান গতিতে হয় না। মাঝে মাঝে হরমোনের কারণে বৃদ্ধির গতি বছরে প্রায় ৮ ইঞ্চি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। তবে পরে শরীর নিজে থেকেই গতি কমিয়ে নেয়।
বয়ঃসন্ধির সময়
সাধারণত মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে আগে লম্বা হতে শুরু করে, প্রায় ১১ বছর বয়স থেকে। ছেলেরা সাধারণত দুই বছর পর লম্বা হতে শুরু করে। তবে ছেলেদের লম্বা হওয়ার গতি বেশি হয়, কারণ তাদের শরীরে গ্রোথ হরমোন ও টেস্টোস্টেরন বেশি থাকে। মেয়েদের দ্রুত বেড়ে ওঠার প্রক্রিয়া সাধারণত ১৬ বছর বয়সে থেমে যায়, আর ছেলেদের ক্ষেত্রে তা চলে ১৮ বছর পর্যন্ত।
বৃদ্ধির ধরন
শরীরের বেড়ে ওঠা বাইরের দিক থেকে ভেতরের দিকে ঘটে। বয়ঃসন্ধিতে প্রথমে হাত ও পা লম্বা হতে শুরু করে। এরপর শরীরের মাঝখানের অংশ বাড়ে সবার শেষে। এই সময়ে হাড়গুলো নরম থাকে, তাই হাড় ভাঙার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে।
সূত্র: লাইভ সায়েন্স



