আকাশে কালপুরুষ নক্ষত্রমণ্ডল চেনার সহজ উপায়
আকাশে কালপুরুষ নক্ষত্রমণ্ডল চেনার উপায়

বিশ্ববিখ্যাত ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক তাদের বিশেষ শিক্ষামূলক সিরিজ ওয়ান্ডার লেসনস প্রকাশ করছে। এই সিরিজের মাধ্যমে আপনি শিখতে পারবেন কীভাবে নক্ষত্রের সাহায্যে দিক নির্ণয় করতে হয়, মেঘের ধরন চিনতে হয়, সাধারণ গাছপালা শনাক্ত করতে হয় এবং বিভিন্ন শিলা বা পাথর চিনে নিতে হয়। আজ আমরা চিনব কালপুরুষ বা ওরিয়ন নক্ষত্রমণ্ডল।

শিকারের খোঁজে

আকাশে কালপুরুষ বা শিকারি নক্ষত্রমণ্ডলকে খুঁজে পাওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো এর বেল্ট বা কোমরের বন্ধনী হিসেবে পরিচিত তিনটি বিন্দু সদৃশ নক্ষত্রকে খুঁজে বের করা। এই তিন নক্ষত্র রাতের আকাশে প্রায় একই সরলরেখায় অবস্থান করে। আলনিটাক, আলনিলাম এবং মিনটাকা নামের তিনটি নক্ষত্র মিলে এই বেল্ট তৈরি করে। শরতের শেষ থেকে বসন্তের শুরু পর্যন্ত, গোধূলি থেকে রাত নামার সন্ধিক্ষণে আকাশের সবচেয়ে পরিচিত দৃশ্যগুলোর একটি হলো এই কালপুরুষের কোমরবন্ধনী।

কালপুরুষ খুঁজে পাবেন যেভাবে

আমরা কালপুরুষকে খুঁজব দক্ষিণ-পশ্চিমাকাশে। সূর্যাস্তের এক বা দুই ঘণ্টা পর এটি সবচেয়ে স্পষ্ট দেখা যায়। পুরো কালপুরুষ নক্ষত্রমণ্ডলকে খুঁজে পেতে বেল্টের ওপরের এবং নিচের বিন্দুগুলোকে কাল্পনিক রেখা দিয়ে যুক্ত করুন। এতে একটি বালুঘড়ি আকৃতি তৈরি হবে। নিচের অর্ধাংশে রয়েছে নীল রঙের অতিদানব নক্ষত্র রাইজেল, যা শিকারির ডান পা হিসেবে পরিচিত। বেল্টের ওপরের অংশে রয়েছে কালপুরুষের ঊর্ধ্বাংশ। সেখানে উজ্জ্বল কমলা-লাল রঙের নক্ষত্র বেটেলজিউস দেখা যাবে, যা শিকারির বাঁ কাঁধ গঠন করে। এটি রাতের আকাশের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কে এই শিকারি কালপুরুষ

গ্রিক পুরাণের এক দানবীয় শিকারির নামানুসারে এই নক্ষত্রমণ্ডলের নামকরণ করা হয়েছে। কালপুরুষের বেল্টের ঠিক নিচে তার তলোয়ারের অবস্থানে আপনি দেখতে পাবেন ওরিয়ন নেবুলা। এটি গ্যাস ও ধূলিকণার একটি অস্পষ্ট কিন্তু দৃশ্যমান মেঘ, যেখানে নতুন নতুন নক্ষত্রের জন্ম হয়। নাসার তথ্যমতে, কালপুরুষের বিখ্যাত নক্ষত্র বেটেলজিউস একটি লাল অতিদানব নক্ষত্র হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ। এটি মহাবিশ্বের বৃহত্তম নক্ষত্রগুলোর অন্যতম। এটি আমাদের সূর্যের তুলনায় প্রায় ৭০০ গুণ বড়। বেটেলজিউস বর্তমানে তার জীবনচক্রের শেষ পর্যায়ে রয়েছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস, ১ লাখ বছরের মধ্যে এটি একটি বিশাল সুপারনোভা বিস্ফোরণের মাধ্যমে শেষ হবে, যা পূর্ণিমার চাঁদের মতোই উজ্জ্বল দেখাবে।

নাসার হাবল টেলিস্কোপের মাধ্যমে সূর্য ছাড়া অন্য কোনো নক্ষত্রের প্রথম সরাসরি ছবি ছিল এই বেটেলজিউস। ২০১৯ সালের শেষের দিকে বিজ্ঞানীরা লক্ষ করেন, এটি রহস্যজনকভাবে ঝাপসা বা অনুজ্জ্বল হয়ে যাচ্ছে। হাবলে পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, নক্ষত্রটি তার পৃষ্ঠের একটি বড় অংশ বিস্ফোরণের মাধ্যমে হারিয়ে ফেলায় এমনটি হয়েছিল। তবে এটি এখনই বিস্ফোরিত হচ্ছে না।

সূত্র: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক