ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণীর মাধ্যমে শেষ হয় ফিউচার বায়োটেকনোলজিস্ট সামিট ২০২৬ এবং ৬ষ্ঠ আন্তর্জাতিক ইয়াং বায়োটেকনোলজিস্টস কংগ্রেস ২০২৬।
অংশগ্রহণকারীরা
সামিটে প্রায় ৪৫০ জন নিবন্ধিত অংশগ্রহণকারী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী, এমফিল ও পিএইচডি গবেষক, তরুণ শিক্ষক এবং প্রারম্ভিক পর্যায়ের গবেষকসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বায়োটেক স্টার্টআপের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক সায়মা হক বিদিশা। তিনি বলেন, ‘বর্তমান শতাব্দীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে বায়োটেকনোলজির কোনো বিকল্প নেই। তাই এই সেক্টরে আমাদের বিশেষ যত্ন নেওয়া এখন সময়ের দাবি।’
বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বিসিএসআইআরের চেয়ারম্যান সামিনা আহমেদ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. জাহিদ রায়হান এবং অ্যারিস্টোফার্মার ডিরেক্টর সাদমান শাহরিয়ার হাসান। প্রত্যেকেই বায়োটেকনোলজির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
পলিসি টক ও সঞ্চালনা
বাংলাদেশের জৈবপ্রযুক্তি ক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে বিশেষ পলিসি টকে মূল বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক আদনান মান্নান। সঞ্চালক হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক মুশতাক ইবনে আয়ূব এবং অধ্যাপক মাহবুবুর রশীদ।
দিনব্যাপী আয়োজন
সারাদিন গবেষণাপত্র প্রদর্শনী, থিসিস উপস্থাপনা, পোস্টার প্রেজেন্টেশন, বিজনেস আইডিয়া কন্টেস্ট, ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতা এবং বায়োটেকনোলজিবিষয়ক ভিডিও প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি আয়োজনে অংশগ্রহণকারীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে প্রাণবন্ত করে তোলে।
সমাপনী অনুষ্ঠান
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ারুল আজিম আখন্দ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (একাডেমিক) অধ্যাপক আবদুস সালাম এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রধান সমন্বয়ক (এসডিজি) অধ্যাপক এস এম আবদুল আউয়াল। সভাপতিত্ব করেন জাতীয় বায়োটেকনোলজি ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক অধ্যাপক মো. ছগীর আহমেদ।
আবদুল আউয়াল মিন্টু বায়োটেকনোলজির গুরুত্ব তুলে ধরে বায়োটেকনোলজিভিত্তিক ব্যবসার পরিকল্পনা ও প্রয়োজনীয় অর্থসহায়তার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
পুরস্কার বিতরণ
গবেষণায় অবদানের জন্য অ্যাওয়ার্ড অব এক্সিলেন্স অর্জন করেন মো. মাহবুব হাসান, শিপন দাশ গুপ্ত, সেজান রহমান, মো. আরিফ খান, উজ্জ্বল হোসেন, রাসেল দাশ, সাইদ আনোয়ার, মীর মুবাশির খালিদ এবং জান্নাতুল ফেরদৌস পাপড়ি। সেরা শিক্ষার্থী নির্বাচিত হন ফারিহা আহমেদ রাইসা, ইয়াসিন রহমান, মুহাইমিনুর রহমান, তাহিয়া আকতার তান্মি ও মামুনুজ্জামান।
থিসিস উপস্থাপন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং রানারআপ হয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগ। বিজনেস আইডিয়া উপস্থাপন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগ এবং রানারআপ হয় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি বিভাগ।
উপসংহার
৬ষ্ঠ আন্তর্জাতিক ইয়াং বায়োটেকনোলজিস্টস কংগ্রেস ২০২৬ শুধু একটি বৈজ্ঞানিক সম্মেলন নয়, এটি বাংলাদেশের বায়োটেকনোলজি যাত্রায় এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এনওয়াইবিবির নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক উৎকর্ষ এবং বিশিষ্ট অতিথি ও নীতিনির্ধারকদের সহায়তায় এই কংগ্রেস নতুন উদ্ভাবনকে অনুপ্রাণিত করবে, পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াবে এবং বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ায় জিনোমিকস ও এআই-চালিত বায়োটেকনোলজির একটি উদীয়মান কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সাহায্য করবে।



