বিশেষ আবাসন বৃত্তি বিতরণে দীর্ঘসূত্রতা, জবিতে জকসুর প্রতিবাদী পোস্টারিং
জবিতে বৃত্তি বিতরণে দীর্ঘসূত্রতা, জকসুর প্রতিবাদী পোস্টারিং

বিশেষ আবাসন বৃত্তির অর্থ বিতরণে দীর্ঘসূত্রতা, শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি এবং বৃত্তি শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) বৃত্তি শাখায় প্রতিবাদী পোস্টারিং কর্মসূচি পালন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু)।

বুধবারের কর্মসূচি

বুধবার (১ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাসুদ আলমের কার্যালয়ের সামনে ও ভেতরে এ কর্মসূচি পালন করেন জকসুর নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা বিভিন্ন ব্যঙ্গাত্মক ও প্রতিবাদী পোস্টার টানান।

বৃত্তি বিতরণের উদ্বোধন ও বর্তমান অবস্থা

উল্লেখ্য, গত ১১ জুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিশেষ আবাসন বৃত্তির অর্থ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করে। সে সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১০ হাজার ১২৪ জন শিক্ষার্থীকে ৯ হাজার টাকা করে মোট প্রায় ১০ কোটি টাকার বিশেষ বৃত্তি দেওয়া হবে। কিন্তু কার্যক্রম শুরুর প্রায় তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ব্যাংক হিসাবে বৃত্তির অর্থ পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি

শিক্ষার্থীরা জানান, বৃত্তির অর্থ না পাওয়ার কারণ জানতে ও প্রয়োজনীয় তথ্য সংশোধনের জন্য বৃত্তি শাখায় একাধিকবার যোগাযোগ করলেও কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাওয়া যায় না। অনেক সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অফিসে পাওয়া যায় না, আবার পাওয়া গেলেও বিভিন্ন অজুহাতে শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ফলে বৃত্তি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে শিক্ষার্থীদের বারবার অফিসে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

প্রতিবাদী পোস্টার

প্রতিবাদী পোস্টারগুলোতে ‘লাঞ্চে আছি, পরে আসেন’, ‘আমি লর্ড মাসুদ’, ‘আমার কাজ শুধু ফাইল ফরওয়ার্ড করা’সহ বিভিন্ন ব্যঙ্গাত্মক বাক্য লেখা ছিল।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জকসুর দাবি ও সতর্কতা

জকসুর নেতাদের দাবি, শিক্ষার্থীদের ন্যায্য প্রাপ্য বৃত্তির অর্থ দ্রুত পৌঁছে দেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। না হলে শিক্ষার্থীদের স্বার্থে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

জকসু ভিপির বক্তব্য

এ বিষয়ে জকসুর ভিপি মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, বিশেষ আবাসন বৃত্তির অর্থ বিতরণ শুরু হওয়ার পরও অনেক শিক্ষার্থী এখনও তাদের প্রাপ্য টাকা পায়নি। এ বিষয়ে সমাধানের জন্য বৃত্তি অফিসে গেলে শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাচ্ছে না। বরং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও দায়িত্বে অবহেলার একাধিক অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে।

তিনি বলেন, জকসুর প্রতিনিধিরা বিষয়টি সরেজমিনে যাচাই করেও অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই ভোগান্তির প্রতিবাদে আমরা প্রতীকী পোস্টারিং কর্মসূচি পালন করেছি। দ্রুত সমস্যার সমাধান ও শিক্ষার্থীবান্ধব সেবা নিশ্চিত করা না হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

জকসু সমাজসেবা সম্পাদকের বক্তব্য

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) সমাজসেবা সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিশেষ আবাসন বৃত্তির ৯ হাজার টাকা শিক্ষার্থীদের পাওয়ার কথা থাকলেও বৃত্তি বিতরণ কার্যক্রম শুরুর প্রায় ২০ দিন পেরিয়ে গেলেও অনেক শিক্ষার্থী এখনও তাদের প্রাপ্য অর্থ পায়নি। এ বিষয়ে সমাধানের জন্য শিক্ষার্থীরা বারবার বৃত্তি অফিসে যোগাযোগ করলেও কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা না পেয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছে। এই অবহেলা ও ভোগান্তির প্রতিবাদেই জকসুর পক্ষ থেকে প্রতীকী পোস্টারিং কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। কর্মসূচির পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করি। তিনি আগামী সপ্তাহের মধ্যে সব শিক্ষার্থীর বৃত্তির অর্থ পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন এবং বিষয়টি দ্রুত সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বক্তব্য

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মোস্তফা শরীয়তুল্লাহ বলেন, বিশেষ আবাসন বৃত্তির টাকা পাওয়ার কথা থাকলেও এখনও আমার অ্যাকাউন্টে কোনও টাকা আসেনি। বিষয়টি জানার জন্য কয়েকবার বৃত্তি অফিসে গিয়েছি। কিন্তু কোনও সুনির্দিষ্ট সমাধান পাইনি। কখনও ব্যাংকে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে, আবার কখনও পরে আসতে বলা হয়। আমরা শুধু জানতে চাই, আমাদের প্রাপ্য অর্থ কবে পাবো। দীর্ঘদিন ধরে এমন অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা সত্যিই হতাশাজনক।

কর্মকর্তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে বৃত্তি শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুদ আলমের সঙ্গে সরেজমিনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে দফতরে পাওয়া যায়নি। এছাড়া তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ফলে শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।